শালবনের গন্ধটা আজও খুঁজে পাই।

লেখা : মীর সজিব

জীবনের সুন্দর ও মূল্যবান সময়টায় কুমিল্লার কোটবাড়ি অঞ্চলে কেটে গেলো। মাধ্যমিক পাশ করেই কোটবাড়ি তে চলে আসা। তখন জীবনের নেই কোন বাধা, নেই কোন চিন্তাভাবনা, শুধু জীবন সুন্দর।

হ্যা আমি কুমিল্লা কোটবাড়ি’র সৌন্দর্যের কথা’ই বলছি। ভাগ্যক্রমে আমার থাকার জায়গাটা ছিলো শালবনের সাথেই। শালবন বিহার এর পাশে অবস্থিত মসজিদে নামাজ পড়ার কথাটা আজও যে ভুলতে পারি না।

জীবনের সুন্দর ৪ টি বছর এই কোটবাড়ি’র শালবন এর সৌন্দর্যের মাঝেই কাটিয়েছি। জীবিকার তাগিদে এই সৌন্দর্যকে ত্যাগ করে যান্ত্রিক নগরীতে বসবাস। তারপরেও এই শালবন এর গন্ধ টা যেন নাকে এখনো লেগে আছে। শালবন এরিয়া’র গন্ধটায় যেন অন্যরকম। দূরে কোথাও গেলে যখন শালবন এরিয়ায় প্রবেশ করতাম তখন যেন অন্যরকম একটা অনুভূতি প্রকাশ পেত। শালবনের গন্ধটায় যেন ছিলো আল্লাহ’র এক সুন্দর দান। Technical Training Center, Comilla (TTC). এর দক্ষিণেই শালবন এরিয়ার শুরু। এরিয়ায় প্রবেশ করলেই নাকের মাঝে এই প্রাকৃতিক গন্ধটা’র আবেশ পাওয়া যায়। রাস্তার পশ্চিম পাশে বৌদ্ধ মন্দির, পূর্ব পাশে বিহার। একটু পরই শালবন। শাল গাছ গুলো একমনে দাঁড়িয়ে আছে, কৃত্রিম বাঘ, ব্যাঙ, হরিণ, বানর ইত্যাদি এইগুলো যেন নীরবতার সাক্ষী।

ছাতার মতো সুন্দর পরিপাটি করে তৈরি করা বসার জায়গা। বনভোজন এ আসা স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের এসব বেঞ্চে বসে হাসি তামাশা দেখা। প্রেমিক যুগলের মন খুলে ভালোবাসার কথোপকথন। শালবনের সৌন্দর্যটায় ধরে রেখেছে এই শাল গাছ। অনেক ঘটনার নীরব সাক্ষী এই শাল গাছগুলো। প্রেমের শুরু, প্রেমের শেষ, সকল ঘটনা’র সাক্ষী তারা।

শালবনের বাতাসের কথা না বললেই নেই। যেই বাতাসে উড়ে আসে প্রকৃতির সুন্দর ঘ্রাণ। প্রকৃতিকে খুঁজে পাওয়া যায় এই বাতাসের গন্ধে। শালবনের বাতাসে পাওয়া যায় এক পবিত্র ঘ্রাণ। বিধাতার সুন্দর সৃষ্টি বুঝি এতই পবিত্র হয়।

একাকিত্বতা গোছাতেও এই শালবনের বিকল্প নেই। শাল গাছগুলোর দিকে তাকালে বুঝা যায় কত সুখ আর কত দুঃখ নিয়ে বেচে আছে। তারা যুগ যুগ ধরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। তবে তা কখনো প্রকাশ করার ইচ্ছে পোষণ করবে না। ব্যার্থ প্রেমিক বা প্রেমিকা নিজের কষ্টগুলো এই শাল গাছগুলোর সাথে এসে তাদের স্মৃতিগুলো প্রকাশ করবে। শাল গাছগুলোও স্বার্থপরের মতো শুনে যাবে, তবে সান্ত্বন স্বরুপ শুধু বলবে ভালো থাকুক সে।

শালবনের লালমাটি’র ধূলিকণা গুলোও যেন এক সুন্দরের প্রকাশ। শালবনের সৌন্দর্যটায় যেন প্রকৃতির দান। শালবনের ভিতর দিয়ে ঘোড়া’র চলাচল, মাঝে মাঝে ঘোড়া’র গাড়িও দেখা যায়।

শালবনের পূর্বপাশে বিহার অবস্থিত। বিহারের সৌন্দর্যের কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই। যার সৌন্দর্য সে নিজেই। কালের সাক্ষী।

বিহারের দক্ষিণাংশে যাদুঘর অবস্থিত। বিহারের সকল কিছুর ঠায় এই যাদুঘরে। যাদুঘরে প্রবেশ করলেই বিহারের প্রাচীন মানুষগুলোর জীবন যাপন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

[এই লেখায় শুধু শালবন এর সৌন্দর্য কথা উল্লেখ করা হলো]

print

কমেন্ট করুন