আমার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার গল্প – ফয়েজ আহমেদ।

আমার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার গল্প – ফয়েজ আহমেদ।

এসএসসি পরীক্ষার পর থেকে চিন্তা ফলাফল বাহির হলে জেনারেল কলেজে ভর্তি হবো নাকি টেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি হবো।
আমি এসএসসি এর পর ও জানতাম না যে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার নিয়ম সম্পর্কে, তখন এক বড় ভাই (জাকারিয়া) আমার ফেমিলিকে বুজালেন। কুমিল্লা কোটবাড়ি সিসিএন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

 

তারপর একদিন ভর্তি প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে যাই, সেখানে বড় ভাই জাকারিয়া ওনার বাড়ির একজন পড়াশোনা করেন ইলেকট্রনিক্স ডিপার্টমেন্টয়ে তখন আমি ও ইলেকট্রনিক্স ডিপার্টমেন্ট ভর্তি হয়ে গেলাম। ক্যাম্পাসে হোস্টেল সিটের আসন বুকিং দিলাম ভর্তি/ ইনফরমেশন রোম থেকে মোঃ মাসুম পারভেজ স্যার বলে দিলেন ১ মাস পর ক্লাস শুরু, হোস্টেলে ক্লাসের আগের দিন সিট গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে এক সপ্তাহ পর অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠান হলো, সেখানে নতুন শিক্ষার্থী প্রায় ২৫০০/৩০০০ হবে আনুমানিক, তখন পরিচিতি পর্ব / ডিপার্টমেন্ট এর বন্ধুদের সাথে পরিচয় হয়।

 

সিসিএন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে একদিন সন্ধায় একটি ফোন আসলো, তখন বল্লো আপনি কি ফয়েজ আহাম্মেদ বলছেন আমি বল্লাম জি আমি , স্যার বল্লো আপনার ক্লাস শুরু শনিবার তখন থেকেই মাথায় টেন্সন মাথা অচেনা একটি যায়গায় অচেনা মানুষ সব কিভাবে ওদের সাথে মেচ করে চলবো, আমার হোস্টেল রোম নাম্বার ১২১ পরেছে, পরে রোমে বেডিং নিয়ে রোমে গেলাম গিয়ে দেখলাম তিনটি সিটই ফিলাফ একটি বাকি আমার টা, খাটের উপর আমার সব কিছু রাখলাম, পরে একজন একজন করে সবার সাথে পরিচয় হলাম, পারভেজ – ফেনী, নিজাম- হাজীগঞ্জ, সবুজ – কসবা. চারজন এক সাথে মিলে ডাইনিং খাবার খেতে গেলাম, এই বন্ধুত্ব শুরু পর দিন সকালে ক্লাস, ক্লাস থেকে এসে প্রথম দিনই বলিবল খেলা, আস্তে আস্তে সেখান থেকেই স্যার, বড় ভাই, নিজেদের ব্যাচের সবার সাথে পরিচয় হয়। পাশের রোমে ১২০ ছিলো সিভিল ডিপার্টমেন্ট এর চারজন ফরহাদ-হাজীগঞ্জ, ছাইফুল-দাউদকান্দি, মামুন-চান্দিনা, তুহিন-গজারিয়া এর মাজে ফরহাদ ছিলো একজন অনেক ভালো মনের বন্ধু, আমার পরের রোমের ছিলো ১২২ নাম্বার সেখানে ছিলো তিন জন বড় ভাই, একজন আমার ব্যাচের সিভিল ডিপার্টমেন্ট এর ছাইফুল – কুমিল্লা,পরে ছাইফুল,ফরহাদ, মামুন এক রোমে উঠে, আমি পাশের রোমে ছিলাম তখন গড়ে উঠলো এই চার বছরের বন্ধুত্বের বন্দন।

 

একসাথে আড্ডা, কলেজ ক্যাম্পাসে খেলাধূলা, পড়াশোনা আনন্দ উল্লাসে কেটে যা চারটি বছরের গল্প, আসলে চাইলে একসাথে কখনো থাকা সম্পর্ক নয় কারন, আমাদের জীবনের যুদ্ধটা শুরু হয়েছে পলিটেকনিক লাইফের শেষ করার পর।

 

সিসিএন মানে সবুজ শ্যামলা, পাহাড় ঘেরা নান্দনিক পরিবেশে বিশাল পরিবেশ মূখর এই প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ক্যাম্পাস শিক্ষার বিদ্যাপীঠ ও মানুষ গড়ার কারিগর। কুমিল্লা জেলার শিক্ষা অঞ্চল নামে খ্যাত পর্যটন এলাকা কোটবাড়ীতে ৩.৫ (সাড়ে তিন) একর জায়গার উপর অত্র প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যাম্পাস স্থাপিত।সু-বিশাল নিজস্ব ও রাজনৈতিক মুক্ত ক্যাম্পাস এটিই দেশের একমাত্র বেসরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট।স্বপ্ন পূরণের অন্যতম জায়গা হল সিসিএন ক্যাম্পাস। জীবনে একবার হলে ও কুমিল্লা কোটবাড়ি সিসিএন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাস টায় ঘুরে জাবেন, শিক্ষার জন্য হক আর নয় ভ্রমণের জন্য আসবেন।

 

লেখা ঃ ফয়েজ আহমেদ মাহিন
প্রাক্তন শিক্ষার্থী
সিসিএন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট
Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। Email: Info@mirchapter.com