একজন তারিকুল ইসলাম চৌধুরী স্যার।

29356430_1473448246099809_680849369791987712_n
লেখা ঃ মীর সজিব।
সিসিএন নামটির মধ্যেই যেন কেমন একটি মায়া ও ভালোবাসা কাজ করে। এই মায়া ও ভালোবাসার এক স্বর্গরাজ্য এই সিসিএন ক্যাম্পাস। এখানে না আসলে মনে হয় না ক্যাম্পাস কি বা ক্যাম্পাসের প্রতি ভালবাসা কি তা জানতাম।
একটি নবজাতক যখন আল্লাহর অশেষ রহমতে মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ঠ হয়ে পৃথিবীর আলো দেখে, এই আলো দেখা থেকেই শুরু হয়ে যায় জীবন চলার শিক্ষা।
ঠিক তেমনিভাবে, সিসিএন শিক্ষাপরিবারের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও এখানে এসে পেয়ে যায় এক মায়া ও ভালবাসার স্বর্গরাজ্য। মায়া ও ভালবাসা কি তা শিখতে থাকে এখানে এসে।
একটি শিক্ষার্থী যখন সিসিএন ক্যাম্পাসে আসে শিক্ষার জন্য, তাকে শুধু একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তার জন্য থাকে সুন্দর একটি ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। এই সিসিএন ক্যাম্পাসে কিসের অভাব??? একটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার জন্য এই ক্যাম্পাসে সবকিছুই আছে। একজন শিক্ষার্থীর জন্য এই ক্যাম্পাসে কোন কিছুরই অভাব নেই। তাদের জন্য রয়েছে মায়া ও ভালবাসার স্বর্গরাজ্য।
ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার নেশায় ভর্তি হওয়া সিসিএন ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের প্রতি এই ক্যাম্পাসের ভালবাসা দেখে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মনে এক-ধরনের হিংসা জন্মে। হিংসা জন্মাবেনা-ইবা কেনো? এ ধরনের ভালবাসা যে এই সিসিএন ক্যাম্পাসেই পাওয়া যায়। এই ভালবাসা তো সরাসরি হৃদয় থেকে আসে। এই ভালবাসার যে মূল্য অনেক।
এবার আসি, আমার চোখে দেখা প্রিয় সিসিএন ক্যাম্পাস ও পিতৃতুল্য স্যার জনাব তারিকুল ইসলাম চৌধুরী।
সবার নেশার মতোই এখানে আসা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। প্রাকৃতিক মনোরম ও সবুজ গাছের লাল পাহাড়ে ঘেরা আমার এই ক্যাম্পাস। যেন একটি সবুজের স্বর্গরাজ্য। প্রথমদিন এসেই যেন প্রেমে পরে যাই এই ক্যাম্পাসের প্রতি। ঐযে, প্রথমে বললাম না সিসিএন নামটির মধ্যেই যেন কেমন একটা মায়া ও ভালবাসা কাজ করে। ঠিক তেমন মায়াটাও মনে হয় আমার উপর এসে বসেছে। তাইতো এই ভালবাসার ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়া।
অরিয়েন্টেশন ক্লাসে সকল অপরিচিতদের সাথে বসে স্যারদের বক্তব্য শোনা, ক্যাম্পাসের সিনিয়রদের উত্থান-পতনের গল্প। ক্যাম্পাসে নিজেকে মানিয়ে নেবার সকল কৌশল ইত্যাদি নিয়ে অরিয়েন্টেশন ক্লাস শেষ করা।
প্রথম ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সাথে স্যারদের ব্যাবহার, আচার-আচরণ যেন একটি সাইলেন্ট ভালবাসার মতো। এই ব্যাপারগুলা সিসিএন এ অনেক ভাল লাগে। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক। বাবা-মা পরিবার ছেড়ে আসা ছেলেদের মনের অবস্থা কি তা খুব সহজেই এখানকার স্যারেরা বুঝতে পারেন। ঠিক সেইভাবেই সাত্ত্বনা দেওয়া। মনে হয় যেন এক পরিবার ফেলে এসে নতুন এক পরিবার পাওয়া। এ যেন একটি ভালবাসার রাজ্য।
ঠিক তেমনিভাবে আমার স্থান হয় আবাসিকভাবে। যাকে বলা হয় হোস্টেল লাইফ। হোস্টেল লাইফের জন্যই মনে হয় সিসিএন কে কাছ থেকে দেখা ও ভালবাসা পাওয়া। হোস্টেলে থাকার ফলে কাছ থেকে সিসিএন কে চিনতে পেরেছি। 
একটি ছেলে যেমন তার বাবা-মা`য়ের কাছে নিরাপদ ঠিক তেমনিভাবে সিসিএন হোস্টেলেও একটি ছেলে নিরাপদ। সর্বোচ্চ সিকিউরিটি দেওয়া হয় এই সিসিএন হোস্টেলে।
একটি ছেলের সর্বাধিক চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত এই সিসিএন শিক্ষাপরিবার।হোস্টেলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সুখ দুঃখের সাথী হওয়ার জন্য শহরের বিলাসবহুল পরিবেশ ত্যাগ করে জনাব তারিকুল ইসলাম চৌধুরী স্যার নিজের বাসভবন তৈরি করেন এই সিসিএন ক্যাম্পাস এরিয়ায়। 
স্যারের কি দরকার শহরের বিলাসবহুল পরিবেশ ত্যাগ করে এখানে থাকার??? প্রশ্ন থেকেই যায়।
আবার নিজে একটু ভাবলেও উত্তর খুব সহজেই পাওয়া যায়। কেন থাকবেনা ভাবুন তো একবার। এই সিসিএন ক্যাম্পাস যে তার বিন্দু বিন্দু ভালবাসা দিয়ে তৈরি। স্যারের যতটুকু ভালবাসা আছে সবটুকু ভালবাসা দিয়ে এই ক্যাম্পাস তৈরি। তাইতো এই ক্যাম্পাসে এত মায়া আর ভালবাসা।
একটি শিক্ষার্থীর সুখ দুঃখের সাথী এই তারিকুল ইসলাম চৌধুরী স্যার। যিনি নিজের হাতে এক একটি শিক্ষার্থীকে আদর্শবান ও নৈতিকতা শিখান। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান যিনি নিজে উপস্থিত থেকে করে দেন। শিক্ষার্থীদের প্র
তিনি যেন স্যারের একটি আলাদা-টান। এটাইতো ভালবাসা এটাইতো মায়া।
জনাব তারিকুল ইসলাম চৌধুরী স্যার দুই সন্তানের অভিবাবক। কথাটি আমি মানতে নারাজ। 
এই দুই সন্তানের প্রতি যতটুকু যত্নবান ঠিক ততটুকুই ক্যাম্পাসের ছাত্রদের প্রতি যত্নবান। যা খুব কাছ থেকে না দেখলে বুঝা যাবে না। নিজের ছেলেমেয়েদের যেভাবে ভালবাসা দিয়ে থাকেন, নিজের বাবা -মা ছেড়ে আসা ছেলেমেয়েদেরও সেভাবে ভালবাসা দিয়ে থাকেন। স্যারের তুলনা স্যার নিজেই। স্যারের তুলনা কারো সাথে দেওয়া সম্ভব নয়।
শিক্ষার্থীদের সাথে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের এমন সম্পর্ক তা কল্পনা ছাড়া কিছুই না। কিন্তু এই সিসিএন ক্যাম্পাস তা লক্ষ্য করা যায়। ছাত্রদের সাথে এক টেবিলে বসে দুপুরের খাবার রমজান মাসে একসাথে ইফতার করা, এ যেন এক কাল্পনিক চিত্র। যা সরাসরি না দেখলে বুঝা বড় দায়। তিনিই জনাব তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, যার তুলনা তিনি নিজেই।
কোন একটি ব্যাক্তিগত কাজে কিছু কাগজ পত্র নিয়ে স্যারের কাছে যাওয়া, যেতে একটু ভয় ও করছিলো স্যার কি না কি মনে করেন। তারপরেও একটু সাহস করে সমস্যার কথাটি বলেই ফেললাম। আমাকে অবাক করে দিয়ে স্যার খুব আগ্রহ নিয়ে স্যারের অফিসরুমে আসতে বলেন। স্যারের হাতে আমার হাতে থাকা কাগজগুলো দিলাম। দেওয়ার সময় হাতে একটু কাপা অনুভব করলাম। হাত কাপাটা ভয়েই নাকি স্যারের আগ্রহ দেখে তা বুঝতে পারলাম না। স্যার খুব আগ্রহ নিয়ে আমার কাগজপত্র গুলো অনেক সময় ব্যায় করে সঠিক করে দিলেন। স্যারের শিক্ষার্থীদের প্রতি এই ভালবাসা দেখে নিজেকে অনেক বড় মনে হতে লাগলো। এখানে শুধু শিক্ষা দেওয়া হয় না, ভালবাসাও দেওয়া হয়।
একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানই যখন এত বিনয়ী হয় তাহলে তার প্রতিষ্ঠানে কেন এত মায়া ও ভালবাসা থাকবে না।
এই সিসিএন ক্যাম্পাস শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ই না এটি একটি মায়া ও ভালবাসার একটি স্বর্গরাজ্য।
স্যারকে নিয়ে লিখলে লেখার শেষ নেই, সাধারণ বিষয়গুলো নিয়ে লিখলেই হাজার পৃষ্ঠার বই লেখা যাবে সকল বিষয়ের কথা তো বাদ ই দিলাম।
স্যারকে নিয়ে লেখার অনেক ইচ্ছে আছে। দোয়া করি এই ক্যাম্পাসে স্যার যেন হাজারবছর বেচে থাকেন। আমিন।
মীর সজিব
সিসিএন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট।

কমেন্ট করুন