API INDUSTRIAL PARK-একটি ঘটনার সাক্ষী

Ccn
৭০০+ শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্টাডি ট্যুর। চোখ বুঝে একবার ভাবুন তো ৭০০+ শিক্ষার্থী নিয়ে স্টাডি ট্যুর কত বড় ট্যুর হতে পারে!
সারিবদ্ধ তিশা VIP বাসগুলো। একের পর এক বাস। পিছনে পুলিশের গাড়ী। সোনারগাঁ হিস্টোরিক্যাল প্লেসের দিকে গাড়িগুলোর যাত্রা। রাস্তায় যেন এক আকর্ষণীয় সরঞ্জাম। বাসে ব্যানার গুলো’র পাশে সিরিয়াল নাম্বার দেওয়া। সিরিয়াল মোতাবেক বাস গুলোর যাত্রা। এক এর পর দুই, দুই এর পর তিন এভাবেই ক্রমান্বয়ে বাসগুলো রাস্তায় চলছে।
প্রতি বাসে তিন থেকে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। এ যেন এক শোভাসৌন্দর্যময় ট্যুর। হিস্টোরিক্যাল প্লেসে বাসগুলো পৌঁছেও যেন ক্রমান্বয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একের পর দুই, দুই এর পর তিন এভাবে নাম্বার প্লেট লাগানো বাসগুলোতে। গাড়ীর সংখ্যা ১৬+। গেইটে যেন অতিথি পাখির সমাগম। টিকেট এর সয়লাব। যে যার মতো ঘুরাঘুরি।
সবাই যখন আনন্দ উল্লাসে মত্ত। একজন ব্যাক্তি ট্যুরের আয়োজন নিয়ে ট্যুরের আগের রাত থেকে ঘুমহীন। সকালে চোখের দিকে তাকানো যাচ্ছিলো না। ৭০০+ শিক্ষার্থীদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা। কতবড় প্ল্যানিং হতে পারে ভাবুন তো একবার। সকাল ৭.৩০ মিনিটে লাল চোখ নিয়ে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ৯০০+ প্যাকেট তৈরির করার কৌশল দেখিয়ে দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সাথে কতিপয় শিক্ষার্থীদের ও দেখা যাচ্ছে সেখানে তারা খাবার প্যাকেট তৈরিতে সাহায্য করছে। আচ্ছা প্যাকেট করা শিক্ষার্থীদের কি লাভ এখানে অন্যদের জন্য খাবার প্যাকেট তৈরি করে। হ্যা লাভ আছে, ঐ যে মানুষটা সারারাত না ঘুমিয়ে লাল চোখ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। উনার চোখের দিকে তাকিয়ে ছেলেগুলো বসে থাকতে পারে নি। নিজের ইচ্ছায় চলে আসে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সাথে প্যাকেট বানানোর কাজে। এখানে যে ভালোবাসার উৎপত্তি। ঐ লাল চোখে যে ভালোবাসা দেখা যায়।
৯০০+ প্যাকেট নিয়ে অপর একটি বাস ৭০০+ শিক্ষার্থীদের কাছে যাবে। সোনারগাঁ এর পাশেই API INDUSTRIAL PARK
https://goo.gl/maps/FL8TjCyY4dULrEdv6
দুপুর ১.২০ মিনিটে প্যাকেট নিয়ে বাসটি দাঁড়িয়ে আছে। বাসের পাশে দাঁড়িয়ে আছে কিছু লোকজন।দুপুরের খাঁ খাঁ রৌদ। সেখানে ছায়াতল বলতে কিছুই নেই। আছে শুধু কিছু কাশবনের জন্ম।
কিছু সময়ের পর ই একের পর দুই, দুই এর পর তিন ক্রমান্বয়ে বাস গুলো গেটের ভিতর দিয়ে API পার্কে প্রবেশ করছে। ৭০০+ স্টুডেন্টস এর খাবার দেওয়ার পালা। বুঝেন এবার চাপ কাকে বলে। ৩০মিনিট+ লাগিয়ে সবার হাতে পানির বোতল আর খাবারের প্যাকেট পৌছিয়ে দেওয়া। বাসের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কতিপয় মানুষগুলো এ খাবার বিতরণ করছে। সাথে লাল চোখ হওয়া মানুষটিও নিজের হাতে শিক্ষার্থীদের নিকট খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। এ দৃশ্য যেন পিতা তার সন্তানকে খাবার দেওয়ার দৃশ্যকেও হার মানাচ্ছে। ৭০০+ শিক্ষার্থীদের সবাই তো আর এক নয়। কেউ নির্দিষ্ট জায়গায় তাদের খাবারের প্যাকেটগুলো রাখছে আবার কেউ রাস্তার মাঝেই ফেলছে।
বিশ্বাস করুন এই দৃশ্যটি দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। ঐ দিন আমি কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক কে দেখি নি, দেখেছি একজন মানুষকে যিনি নিজের হাতে শিক্ষার্থীদের ফেলে দেওয়া বক্সগুলোকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে। দৃশ্যটি দেখে আমি হা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। কিভাবে সম্ভব! আমি কোন স্বপ্ন দেখতেছি নাতো। নিজেকে আর স্থির রাখতে পারলাম না। ঐ ব্যাক্তিটির পিছনে পিছনে প্যাকেটগুলো কুড়িয়ে রাস্তার পাশে রাখছি। প্রথমে একটু দ্বিধা লাগছিলো যে জুনিয়রদের ফেলে দেওয়া প্যাকেট আমি সিনিয়র হয়ে কুড়াবো তা কিভাবে হয়। আমার সামনের ব্যাক্তিটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়ে কুড়াচ্ছে, আর আমিতো মাত্র একজন ছাত্র।
ট্যুরের যাবতীয় কাজ সমাপ্ত করে ক্যাম্পাসে আসার সময় সারা রাস্তায় শুধু এই দৃশ্যটিই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কিভাবে সম্ভব তাও একজন প্রতিষ্ঠাতা।
দায়িত্ব কি এবং দায়িত্ববান কাকে বলে এই দৃশ্যটি না দেখলে জীবনে কিছুই বুঝতাম না। ভালোবাসার মানুষগুলো একটু বেশিই প্রিয় হয়।
মীর সজিব
সিসিএন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

কমেন্ট করুন