গল্পটা বন্ধুত্বের – সামিউল আদনান।

সাঈদ- কিরে কই তুই কতগুলা কল দিসি?
রায়হান – আরে ভাই আর বলিস না মিটিং এ ছিলাম। হটাৎ করে এতো কল কেনো তুই ঠিক আছিস তো?
সাঈদ- আরে হ্যাঁ আমি ঠিক আছি। অফিস থেকে বের হবি কখন?
রায়হান – আজকে বের হতে একটু দেরি হতে পারে হাতে একটা কাজ আছে।
সাঈদ- অনুমান করে বল কয়টা বাজবে?
রায়হান – এই মনে কর ৯টা।
সাঈদ- ধন্যবাদ।
রায়হান – কেনো বল তো?
সাঈদ- ঐ বেটা এত কথা বাড়াস কেন তুই? আজকে বাহিরে ডিনার করবো আমি ৮ টায় অফিস থেকে বের হয়ে তোর ওখানে চলে আসবো।
রায়হান – কিরে আজকে হটাৎ বাহিরে ডিনার কেন?
সাঈদ- ঐ বেটা তুই বেশি কথা বলিস, চল আমি কল রাখলাম।
রায়হান – হুমম সাবধানে আসিস।
[সাঈদ আর রায়হান খুব ভালো বন্ধু(বেষ্টফ্রেন্ড) ১৩ বছর তাদের বন্ধুত্ব, আর ১৩ বছর ধরেই এক সাথে। সাঈদ একটু চঞ্চল প্রকৃতির ছেলে কিন্তু মনটা অনেক ভালো আর রায়হান খুব ঠান্ডা মেজাজের ছেলে।]
রায়হান – কিরে হঠাৎ করে বাইরে ডিনার!
সাঈদ – ট্রিট দিবো আজকে আমি।
রায়হান – কি উপলক্ষে রে বল বল। প্রেমের অফার পেলি নাকি?
সাঈদ – আরে না রে বেটা প্রেম-টেম না। প্রমোশন হইছে রে পাগলা।
রায়হান – বলিস কিরে অভিনন্দন ভাই অভিনন্দন।
সাঈদ- ধন্যবাদ ভাই। সবটাই সম্ভব হইছে তোর জন্য, ঐ সময় যদি তুই সাহায্য না করতি তাহলে আজ হয়তো চাকরিটা আমি পেতাম না তার উপর আব্বু ও অসুস্থ হয়ে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে নিল। সময় মতো চাকরিটা আমার না হলে কি যে অবস্থা হতো ভাই অনেক অনেক শুকরিয়া।
রায়হান – আরে না রে ভাই এভাবে বলিস না চাকরিটা তোর প্রাপ্য ছিল। প্রমোশন তো হল বিয়েটা কর এবার নাকি?
সাঈদ – হুমম বিয়ে তো করবো কিন্তু আরও ২-৩ বছর পর। কারণ মাত্রই প্রমোশন পেলাম গুছিয়ে নেই আগে। তার পর বোনকে ও বিয়ে দিতে হবে। ছোট ভাই আদিলকে একটা লাইনে ঢুকতে পারলে তারপর বিয়ে। তুই তো বাপের এক ছেলে তুই বিয়ে করছিস না কেন?
রায়হান – আম্মু একটু আগে আমাকে কল দিয়ে বলছে তারা নাকি মেয়ে দেখে আসছে তাদের নাকি খুব ভালো লাগছে মেয়েকে।
সাঈদ – বলিস কি আন্টি মেয়ের ছবি পাঠায় নাই?
রায়হান – পাঠাইছে। এই দেখ…
সাঈদ – মাশাল্লাহ ভাই মেয়ে তো অনেক সুন্দর। বিয়েটা করেই ফেল।
[ডিনার শেষ করে দুজনই বাসায় ফিরলো। তারপর ৬ মাস পর রায়হানের বিয়ে হয়। মানুষ বলে বিয়ের পর মানুষ পরিবর্তন হয়ে যায়, বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু সেই বিষয়টা সাঈদ আর রায়হানের মধ্যে দেখা যায় নি। মাঝে মধ্যেই তারা একসাথে হত। এভাবেই কেটে গেল ৩ বছর, সাঈদ তার বোনের বিয়ে দিল, নিজে গাড়ি কিনলো। আদিলও পুলিশে যোগদান করলো। একদিন হঠাৎ করে অসময়ে(রাত ১১:৪৮) রায়হান সাঈদকে কল করে –
রায়হান – সাঈদ কই তুই (কন্ঠ শুনেই সাঈদ বুঝতে পারলো রায়হান খুব চিন্তিত)
সাঈদ – কিরে ভাই কি হইছে তোর, এতো চিন্তিত মনে হচ্ছে কেন তোরে?
রায়হান – তোর ভাবির ব্রেন টিউমার অপারেশনের জন্য খুব ইমার্জেন্সি ৩ ব্যাগ O- রক্ত লাগবে। কিভাবে কি করবো কিচ্ছু বুঝতেছি না।
সাঈদ – আরে এতো অধৈর্য্য হইস না। আমার রক্তের গ্রুপও তো O- ভুলে গেছোস নাকি? আমি আসতেছি ধৈর্য্য ধর।
রায়হান – তুই তো কোনো দিন কাউকে রক্ত দেস নাই।
সাঈদ – কথা বাড়াইস না। অন্যের সাথে নিজেরে মিলাইস না। কল রাখ আমি আসতেছি।
[সাঈদ গাড়ি নিয়ে চলে গেল হাসপাতালে। এবং অফিসের এক কলিগকে কল করে আরো ২ ব্যাগ রক্ত যোগাড় করলো। অপারেশন সফল হয়েছে শুনে সাঈদ তার কলিগদের বাসায় পৌঁছে দিয়ে হাসপাতালে ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চলে যায় না ফেরার দেশে।]