আমার বৈশাখে আরোহি- মীর সজিব

আজ পহেলা বৈশাখ অফিসে যাওয়ার কোন প্যারা নেই। টেনশন মুক্ত ঘুম দিয়েছিলাম। আরোহি’র ও আজ হাসপাতালে যেতে হবে না। ওর হাসপাতালে না যাওয়াটায় আজ আমার ঘুমের ব্যাঘাত।

ওর পিড়াপীড়ি’তে আর বিছানায় থাকতে পারলাম না। আমাকে গোসলখানায় পাঠিয়ে তার পিড়াপীড়ির অবসান ঘটলো।
পবিত্র গোসল দিয়ে ডাইনিং রুমে বসতেই পান্তা ভাত আর ইলিশের বদলে পাঙাশ মাছ। পাঙাশ মাছ দেখে আমার চোখ তো কপালে। বৈশাখের সব কিছুই ঠিক আছে যেখানে ইলিশ থাকার কথা সেখানে পাঙাশ!!! এ কেমন বিচার ভাই!!!!

আমার নিরহ চোখের দিকে তাকিয়ে আরোহি বলে সারপ্রাইজড☺☺। তোমার হোস্টেল লাইফের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই আজ স্পেশাল দিনে তোমার প্রিয় মাছ। আমিতো বাঘের মুখে থাকা বোকা হরিণের মতো তাকিয়েই রইলাম।

ডাইনিং রুম থেকে বের হয়ে আমার রুমে আসতেই পিছুপিছু আরোহি চলে আসলো।
আরোহি’র হাতে Sailor এর ব্যাগ দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার পাগলী বউটা বৈশাখী গিফট নিয়ে আসছে। মেয়েটা এখনো আগের মতোই পাগলামো করে।

Mahfuz Clickzz

ব্যাগ থেকে পাঞ্জাবী টা খুলে নিজেই পরিয়ে দিলো। আমাকে পাঞ্জাবী পরিয়ে দিয়ে নিজে সাজতে ব্যস্ত হয়ে গেলো। লাল শাড়ী যা আমার খুব প্রিয়। আয়নার সামনে বসে সাজতে থাকে আরোহি। ওর দিকে নজর পরতেই তার খোলা পিঠে চোখ আটকিয়ে গেলো। খোলা পিঠের পানে তাকিয়েই রইলাম। নিজেকে অনেক কষ্টে কন্ট্রোল করে তাকে রেডি হওয়ার জন্য তাড়া দিতে লাগলাম।

বাসা থেকে বের হয়ে রিক্সায় উঠলাম। কোটবাড়ি বার্ডে যাবো। বৈশাখে বার্ড তার সৌন্দর্য আরো বেশি ফুটিয়ে তুলে। বার্ডের গেইটে এসে রিক্সা থেকে আরোহি’র হাত ধরে তাকে নামতে সাহায্য করি।

প্রকৃতির আরেক দান হলো কুমিল্লা বার্ড। প্রকৃতির সৌন্দর্য বার্ডে না আসলে বুঝা দায়। সুন্দর পরিপাটী করে রাস্তার দুপাশে ফুল ফল বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। বার্ডের ভিতরেই তাদের নিজস্ব উদ্যোগে মেলা বসে। অনেক মানুষের সমাগম।

আমি আর আরোহি দুজনে হাত ধরে বার্ডের রাস্তা দিয়ে হাটছি।মেলায় বাচ্চাদের আনন্দগুলো ছিলো চোখে পড়ার মতো। মেলায় বাচ্চাদের আনন্দগুলো দেখে আরোহি’র চোখের কোণে পানি জমাট বাধতে শুরু করে। আরোহি’র চোখের পানি দেখে সব থেকে বেশি কষ্ট পেয়েছিলাম আমি। টিস্যু দিয়ে আরোহি’র চোখের পানি মুছে দিয়ে বলেছিলাম আমাদের ও এমন বাবু হবে।

print

কমেন্ট করুন