এ কেমন বৈশাখ !!!

এ কেমন অচেনা আগমন বৈশাখ তোমার ?নাই কোনো ঢাকের বাদ্য, বাজে না করতাল- এ আবার কেমন বৈশাখ!
জ্বরের ঘোরে কাঁপছে বিশ্ব।থমথমে হয়ে আছে সারা বিশ্ব। মৃত্যুর মিছিলে যেতে কেউ রাজি নয়। এই মৃত্যুর মিছিল যে ইচ্ছের বিরুদ্ধে এসেই নিয়ে যেতে চায়।
করোনার আতঙ্কে তো আর দিন থেমে থাকে নাহ। ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো তার আপন গতিতে চলছে । এই আতঙ্ক মানুষকে থামিয়ে দিয়েছে কিন্তু ঘড়ির কাটাকে থামাতে পারে নি। বছর ঘুরে ঠিকই আবার বৈশাখ চলে আসছে। কিন্তু বৈশাখের সেই আমেজ তো নেই, নেই রমনার বটমূলে একঝাক গানের পাখি। এমন বৈশাখ তো বাঙালী সংস্কৃতি প্রেমিরা চায় নি। বৈশাখ মানেইতো ছিলো আনন্দের এক অপরূপ দৃষ্টান্ত। অতীতের সব গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে এসেছে এই বাঙালী। বৈশাখ আমাদের বাঙালিদের জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা স্থান দখল করে আছে। এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখে শুরু হয় বাংলা বছরের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ মানে নতুন দিনের শুরু। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ এই দিনে উৎসবে আনন্দে মেতে ওঠে। আমাদের শৈশব পহেলা বৈশাখের সাথে স্মৃতিতে জড়িয়ে আছে।
রোমান্টিক বিবাহিত কাপলগুলো এই ১৪২৭ বাংলা বর্ষ’টা একটু ভিন্নভাবে পালন করবে। মেয়েটি তার আদরের বরের জন্য সকল পছন্দের খাবার রান্না করবে। হাতের সকল কাজ শেষ করে সাথে গোসলটাও সেরে ফেলবে। ভেজা চুল নিয়ে তার গত বছরের বৈশাখের শাড়িটা আলমারি থেকে বের করে
ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে পরবে। সে তার বরের পছন্দের সাঁজে সাজবে। সাঁজতে গিয়ে তার নগ্ন পিঠে বরের চোখ আটকিয়ে যাবে। সাজগোজ শেষ করে বিকেল ঘনিয়ে আসবে। বিকেলের মৃদু রৌদে তার বর’কে নিয়ে বাসার ছাদে যাবে। বাসার ছাদে দুজন মিলে হরেক রকমের ছবি তুলবে। সেলফি তো থাকবেই।
কাপলগুলোর মনে বৈশাখ নিয়ে কত-শত প্ল্যান ছিলো। তার ভালোবাসার মানুষটি নিয়ে বৈশাখের শাড়ি পড়ে ঘুরবে। তার প্রেমিক পাঞ্জাবি পরবে । একজন আরেকজনের হাত ধরে মেলায় ঘুরবে। মেলায় হয়তো পানির পিপাসা পেলে ১৫ টাকা মূল্যের ফ্রেশ পানির বোতল না কিনে তারা হয়তো বিভিন্ন ফলের মিশ্রণের জুস খাবে প্রতি গ্লাস ১০ টাকা করে। পিছন থেকে পাঞ্জাবি ধরে থাকা পথ শিশুটা বলবে স্যার ৫ টা টেকা দেন। আমি মজা খামু।
পহেলা বৈশাখ আমাদের নববর্ষ। নববর্ষ আমাদের প্রাণের উৎসব। বটমূল আমাদের মিলন মেলা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সার্বজনীন উৎসবে ঘরে ঘরে মেতে ওঠা বাঙালি গাইবে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। বাংলার গ্রাম, শহর, বন্দর, সব জায়গায় আজ দোলা দেবে পহেলা বৈশাখ তবে সেটা একটু অন্যভাবে। পান্তা-ইলিশ খাওয়া, মুড়ি-মুড়কি, মন্ডা-মিঠাই সবই হবে, তবে তা যার যার ঘরে।

লেখা : মীর সজিব