বই পড়তে না পারার যন্ত্রণা।

জন্মের পর থেকেই শুরু হয়ে যায় শেখার পালা। পরিবারের মুরুব্বিদের পছন্দ করে দেওয়া নামই হয়ে যায় নিজের নামের একটা স্টিকার।
ধীরে ধীরে বেড়ে উঠা আর সেই শব্দ শুনতে শুনতে মনে হওয়া ইহাই আমার নাম। বয়স যতই বাড়তে থাকে শেখার ঝুলি টাও বড় হতে থাকে। কথা বলা শিখতে পারলেই শুরু হয়ে যায় অ আ ই ক খ গ এর চর্চা।
এবার মূল গল্পে আসি,
জীবনের জীবিকা নির্বাহের জন্য পরিবার পরিজন ছেড়ে অথবা নিজের সুখ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে শুরু হয় কর্মজীবন। কর্মজীবন মানেই আজ এখানে কাল ওখানে।
শুরুতেই বলে নেওয়া উচিত, জঙ্গল কে মঙ্গল করার শুরুটায় হয় পুরকৌশল বিভাগ থেকে। আপনি যেখানে বসে আছেন সেখানের পাশের দেওয়ালটির দিকে একটু মনোযোগ দিয়ে দেখুন তো কারো চেহারা ভাসছে কি’না? জ্বি আপনি যার চেহারা দেখছেন তিনিই একজন পুরকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী।
যাইহোক, কোন একটি স্বনামধন্য কোম্পানির পুরকৌশল বিভাগের একজন প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত হওয়ার ফলে অফিস শেষে কোম্পানির ডর্মে’ই অবস্থান করা৷ নবাবগঞ্জের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ছিলো আমার প্রজেক্ট সেই সুবাধে নবাবগঞ্জে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেছি। নবাবগঞ্জের প্রাচীন নিদর্শন ও ধলেশ্বরী নদীর সৌন্দর্য খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে পেরেছিলাম।
সেই উপভোগ শেষ পর্যায়ে চলে আসার ফলে একই কোম্পানির আরেকটি বিদুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বদলি হয়ে চলে আসতে হলো। সেই একই নিয়ম কাজের সুবাধে কোম্পানির নিজস্ব ডর্মে অবস্থান করা৷
একটা ব্যাপার থাকে যে কোন একটি জায়গায় কিছুদিন থাকার ফলে সেই জায়গার প্রতি একটা মায়া জন্মায়৷ তবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বদল হতে গেলে নিজ ব্যবহৃত মালামাল স্থানান্তর করা খুবই ঝামেলার ব্যাপার।
একটা কথা বলে রাখি,ছোট থেকেই আমার বই পড়ার খুব নেশা, তবে সেটা নিজের একাডেমিক পাঠ্য বই নাহ৷ বড় হয়ে যখন প্রযুক্তির ছোয়া লেগেছে তখন ও মোবাইল বা ট্যাবে যতটুকু সময় পাই কিছু একটা পড়ার চেষ্টা করি।
সেখান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে আনতে গিয়ে মনের ভুলে বইয়ের ব্যাগটায় আনা হয় নি। সেখানে থাকা অবস্থায় রকমারি ডট কম থেকে লেখিকা ফারহানা কলির “কিছু মেঘ নদী হোক” বইটি অর্ডার দিয়ে নিয়ে এসেছিলাম, বইটির অর্ধেক পড়া হয়েছিলো বাকিটুকু পড়া হয় নি।
যাক সেই কথা, নতুন ডর্মে এসেছি মুড টাও একটু অফ টাইপের হয়ে আছে, প্রযুক্তি নির্ভর মোবাইলের স্ক্রিনে আর কত চোখ বুলানো যায়, সময়ও কাটছে নাহ, তখন খুব করে বই পড়ার নেশা জন্মে নিলো, এ-ত দেখছি বিশাল ভয়ংকর নেশা, নেশা শুধু বাড়তেই থাকলো। হাতের কাছে তো কোন বই নেই, সময় যত যাচ্ছে নেশার তীব্রতা বাড়তেই আছে। কোথাও কোন বই পাচ্ছি নাহ যেন মনের ভিতরের বই পড়ার তীব্র খিদে টা মিটে। বই পড়ার তীব্র খিদার কি যে যন্ত্রণা সেটা মুখে বলে বুঝানো কারো পক্ষে সম্ভব নয়। অনেক কষ্ট সহ্য করার পর চোখ দুটি নিজ থেকেই বন্ধ হয়ে এসেছে, কিছু সময় পর চোখ মেলে দেখি সকাল ৮ টা। তরিগরি করে বিছানা ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে অফিসের পথে রওনা দেওয়া।
বই পড়তে না পারার যন্ত্রণা আজও বুকের বাম পাশটায় একটু কিঞ্চিৎ ব্যাথা অনুভূত হয়।
লেখা : মীর সজিব।

কমেন্ট করুন