পূজোর রাতে আরুতি। – মীর সজিব

পূজোতে খুব বেশি আনন্দ না করতে পারলেও ব্যাস্ততার শেষ নেই।
আমি অর্ক। পূজাতে খুব ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে এ ব্যস্ততা’র মাঝে অনেক আনন্দ রয়েছে।  বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মজে আছি। হঠাৎ মোবাইলে মেসেজ এর শব্দ। মোবাইল পকেট থেকে হাতে নিতেই স্ক্রিনে আরতি’র নাম। মেসেজ ভিউ করেই চোখ কপালে। Aruti : Amader Bashar Chaad e Asho.

বন্ধুদের কিছু বুঝতে না দিয়েই সোজা চলে গেলাম আরতি’দের বাসার ছাদে। আরতি’র সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক নাকি বন্ধুত্বের সম্পর্ক তা এখনো বুঝে উঠতে পারি নি। মেয়েটিকে দেখলেই কেমন যেন পবিত্র মনে হয়। আমি যেন সাক্ষাৎ দেবীর দর্শন পাই। কখনো মুখ ফুটে ভালোবাসি বলতে পারি নি। আরতি’ও কখনো বলেনি ভালোবাসি। তারপরেও দুজনার মাঝে ভালোবাসার সম্পর্ক থেকেও যেন আরো অনেক বেশি।
গলি দিয়ে আসা-যাওয়ার পথে আরতি যেন ইচ্ছে করেই দাঁড়িয়ে থাকে আমাকে দেখবে বলে। আরতি’র খোলা চুল চোখের তাকানো আমার মনে মাদকতা’র নেশা এনে দেয়। একই গলিতে দুজনের বসবাস। শুধু বাসাটায় ভিন্ন।

পাড়ার দাদার সাথে আরতির বিয়ে হয়েছে ১+বছর হবে। বিয়েতে আমিও গিয়েছিলাম অনেক আনন্দও করেছি। বিয়ে বাড়ী থেকেই আরতি আমাকে চিনতে সক্ষম হয়েছে। দাদার সাথেও আমার ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে গলি দিয়ে আসা-যাওয়ার সময় দাদার সাথে আমার কথা হতো আরতি তা উপর থেকে দেখতো।

আরতি’কে আমার কেন যেন খুব বেশি ভালো লাগতো। খুব নিষ্পাপ ছিলো তার চোখের তাকানো। সাক্ষাৎ দেবী। প্রথম দেখায় যে কেউ তার প্রেমে পড়বে। যা আমারও হয়েছে প্রথম দেখায়। আরতি’র সাথে প্রথমে চোখাচোখি হতো ওর চোখে যেন আমি স্বর্গ খুঁজে পেতাম। এভাবেই ধীরে ধীরে আরতি’র সাথে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে।কখনো বলা হয়নি ভালোবাসি তোমায়। দু’জনের মাঝেই ভালোলাগা কাজ করতো। আরতি’কে শুধু বলতাম আমি তোমার মাঝে দেবীর সৌন্দর্য খুঁজে পাই। আরতি তখন কিছুই বলতো না। আরতি’র নীরবতা আমার নেশা বাড়িয়ে দিতো। তবুও আরতি’কে ভালোবাসি কখনো বলতে পারি নি। দেখতে দেখতে দূর্গাপূজা চলে আসলো। পূজোতে সবাই যে যার মতো ব্যস্ত। আরতি’র সাথে এই কয়েকদিন খুব একটা বেশি কথা বলা হয় নি।

আরতি’র মেসেজ পেয়েই তার বাড়ির ছাদে চলে আসি। পুরানো বাড়ি, বাড়ি বললে ভুল হবে, দেখতে যেন প্রাসাদ। ভালোবাসা’র আদান-প্রদানের জন্য এই বাড়ির ছাদটি যেন সেইভাবে তৈরি।
পূজোতে গান বাদ্যযন্ত্র বিভিন্ন আওয়াজ যেন সময়টা’কে ভালোবাসাময় করে রেখেছে।
চাঁদের মিটিমিটি আলোতে আমি আরতি’দের বাড়ির ছাদে চলে আসি। ছাদে পা রাখতেই আমি চমকে উঠি। বুকের বামপাশটায় যেন কেমন করে উঠলো। ছাদে তো আরতি থাকার কথা আমিতো সাক্ষাৎ দেবীকে দেখতে পাচ্ছি। নিজেকে বিশ্বাস হচ্ছিলোনা হয়তো ঘুরের মাঝে পড়ে আছি। লাল শাড়ী, লাল ব্লাউজ এলোমেলো চুল বাতাসে ঝুলছে চাঁদের আলোয় পিঠের সৌন্দর্য আমাকে কাছে ডাকছে। আমি যেন স্বপ্নরাজ্যে চলে এসেছি।

আমার উপস্থিত বুঝতে পেরে আরতি ফিরে তাকালো। আরতি ফিরে তাকাতেই আরতি’র সৌন্দর্য যেন আরো বহুগুণ বেড়ে গেলো। কপালে লাল টিপ ঠোটে লাল লিপস্টিক হাতাকাটা লাল ব্লাউজ আরতি যেন সাক্ষাৎ দেবী। স্বর্গের দেবীরা নিশ্চয় আরতি থেকে আরো সুন্দর।
তবে আরতি’র মাঝেই আমি স্বর্গের দেবীদের খুঁজে পাই।

আরতি আমার নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে দিয়ে বলতে শুরু করলো,  অর্ক তুমি আমাকে দেবীর রূপে দেখতে চেয়েছিলে। দেবী’র মতোই সাজতে চেষ্টা করেছি হয়তো দেবীর মতো সুন্দর না আমি তবে তোমার মনের ভিতরের দেবীর মতোই সেজেছি।

আমি মুখ ফুটে তখনো কিছু বলতে পারছিলাম না। শুধু আরতি’র দিকে তাকিয়ে রইলাম। আরতি’র লাল শাড়ী, লাল হাতাকাটা ব্লাউজ, লাল লিপস্টিক বাতাসে উড়তে থাকা এলোমেলো চুল আমার ভিতরে বসবাস করা দেবীর থেকেও আরো বেশি সুন্দর। আমি তো আরতি’কে নয় দেবীকে দেখছি। আরতির লাল চুড়ির শব্দ, আলতা রাঙ্গা পায়ে নুপুরের শব্দ আমার মাদকতার নেশা বাড়িয়ে দিচ্ছে।আরতিও কেমন যেন অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমার কাছ থেকে কিছু একটা চাইছে, মুখ ফোটে বলতে পারছিলো না। মেয়েদের বুক ফাটলেও মুখ ফাটে না। ভগবানের কি লীলা হঠাৎ বৃষ্টির দু’এক ফোটা আরতি’র লাল ঠোঁটে এসে পড়েছে। বৃষ্টির ফোটাগুলোতে আরতি’র ঠোট যেন আরো বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে গেছে। রাতের আকাশের  মিটিমিটি আলো পূজায় সৃষ্ট শব্দ পরিবেশটায় যেন আমাদের দুজনের জন্য একে অপরকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করেছে।

সকল ভাবনার সমাপ্তি ঘটিয়ে  আরতি আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আরতি তার ক্ষুধার্ত লাল ঠোটজুড়ো আমার ঠোটপানে স্পর্শ করানোর মুহূর্তে আমাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে ঠেলে দিয়ে ছাদ থেকে দৌড়ে চলে গেলো। আমি আরতির খোলা পিঠের পানে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম আরতি’র চলে যাওয়া। ( চলবে )

ইহা একটি কাল্পনিক গল্প মাত্র। ইহাকে ধর্মের নাম দিয়ে হালুয়া বানিয়ে দিবেন না কেউ।

print

কমেন্ট করুন