দেশের ভালোবাসা- আনন্দধারা।

সকাল থেকেই দেখছি নিউজফিডে বাংগালী মেয়ের আরেক আমেরিকান মেয়েকে বিয়ে করার খবর। সমকামীতা নিয়ে আমার দ্বিমত নাই। কারন প্রকৃতি অনেক কিছুই স্বাভাবিকতার বাইরে তৈরি করে দেখেছি। কারো হাতে ৬ টা আংগুল, কারো পা বাকা, কেউ আবার দুই মাথা নিয়ে জন্মায়, কেউ আবার দেখতে পুরুষের মত কিন্তু আচরন গুলো মেয়েদের মত। অতএব আমার বিশ্বাস সমকামীতাও প্রকৃতিরই একটি খেয়াল। এ নিয়ে অবাক হবার কিছু নাই।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই যে এত এত লোক আমেরিকায় সমকামী দেখা যাচ্ছে তাদের কি আসলেই সবাই প্রকৃতিগত ভাবেই সমকামী? নাকি বিকৃত মানিসিকতা থেকেও এরকম নিজেদের সমকামী আক্ষ্যা দিয়ে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে? নাকি প্রকৃতিতে যে রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যাচ্ছে মানুষের অনিয়ম আর বাড়াবাড়ির কারনে, সেরকম কারনেও তো নারী গর্ভে সেরকম অস্বাভাবিক স্বভাব নিয়ে শিশু জন্মাচ্ছে? অনেক কিছুই হতে পারে।
কিন্তু বাংগালী বলেই বিষয়টা ভাবনার ভিতরে পড়ে। লরেন (আমার আমেরিকান এক মেয়ে ক্লায়েন্ট) কাছেই শোনা, “এখানে অনেক মুসলিম খ্রিষ্টান হয়ে আমেরিকায় যেতে চায়, অনেকে তাকে সাহায্য করতে বলে।” বাংগালী রক্তে মিশে আছে, “যা কিছুকে সে সুবিধা মনে করে তা অর্জনের জন্যে হেন কাজ নাই সে করতে না পারে।” ব্যাপারটা বাঙ্গালীর জন্য কতটা অপমানজনক তা কি বাঙ্গালীর অনুধাবন হয় না? না হয় না, হলে তারা এমন কাজ করত না।
বাংগালী মেয়ে সমকামী হোক বা না হোক, বিষয়টা সেটা নয়। আমরা আজ ঘৃনা দিয়ে স্যাটাস দিচ্ছি। কিন্তু নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, আমেরিকান পরিবেশে আপনার ছেলে মেয়েকে নিয়ে গিয়ে ফেলেছে কে? এই ১৭ কোটি মানুষের ভিতর মেয়েটির অবশ্যই আত্মিয়স্বজনও আছে। আমার আপনার আত্মীয় স্বজনও আছে। তাদের ছেলে মেয়েরাই বা কি করছে? আপনি নিজেও কি আমেরিকা যাওয়াকে স্বর্গবাস মনে করছেন না? তাহলে সমস্যা আসলে কোথায়?
যে সব বাবা-মা’রা তাদের ছেলে মেয়ের ভবিষৎ চিন্তা করে আমেরিকায় পা বাড়িয়েছিলেন তাদের ১০০ এর ভিতর ১০০ পারসেন্ট একটা সময় পর আফসোস করছেন। বিশ্বাস না হলে জরিপ চালিয়ে দেখেন। আর, লরেনের কাছে শোনা, বাংলাদেশীরা আমেরিকা গিয়ে আমেরিকান সাজার চেষ্টা করে। এটাই সবচেয়ে বড় কারন তারা সেখানে সুখী না হবার। নিজের “আমিত্ব”কে বাদ দিলে তো আর কিছুই থাকল না।
জায়গা বদলে যদি আমার পরিচয় বদলে যায়, তাহলে আমার টিকে থাকার সম্ভাবনা খুব কম। “গরম কালের সবজি শীতে ভাল হয় না” প্রকৃতির এই নিয়মটা বুঝতে পারলেই কারন গুলো বোঝা যাবে। রাস্তায় ডিভাইডারের ভিতর লাগানো গাছে ধুলা ময়লা পড়ে থাকলেও, গাড়ীর কালো ধোয়ায় সারাদিন ডুবে থাকলেও, মলিন, তবুও ফুল ঠিকই ফোটে। কিন্তু বিদেশি ফুলকে নিবীড় যত্নে রেখেও ফুল ফোটানো অনেক কষ্টসাধ্য।
নেহায়েত বাধ্য না হলে আমি কোথাও যাব না এ দেশ ছেড়ে। আমার চোখ যে আকাশ, বৃষ্টি, গাছপাল আর জীবনযাত্রা দেখে অভ্যস্ত সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য কোন প্রকৃতি দেখলেই চোখে ইরিটেশন হয়। মনের ভিতর সারাক্ষন কাজ করতে থাকে আমি ভিনদেশী, আঊটসাইডার। ইসস! এই আউটসাইডার ফিলিং যে কি বিশ্রী, তা কেবল বোধ সম্পন্ন মানূষই টের পায়।
পরিশেষে রজনীকান্ত সেনের সেই বিখ্যাত কবিতা “স্বাধীনতার সুখ” আবৃতি করে শেষ করছি…
বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই,
“কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই,
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে
তুমি কত কষ্ট পাও রোধ, বৃষ্টির, ঝড়ে।”
বাবুই হাসিয়া কহে, “সন্দেহ কি তাই?
কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়।
পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।”