নবীনগরের বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের আর নেই।

নবীনগরের বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের আর নেই।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রবীণ অভিনেতা নাট্যজন আলী যাকের আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) ৭৬ বছর বয়সে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

 

১৯৭২ সালের আরণ্যক নাট্যদলের ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করেন এই নাট্যব্যক্তিত্ব। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সাল থেকে কাজ করছেন নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় নিয়ে। মঞ্চের পাশাপাশি টিভি নাটকেও সমাদৃত হন এই তারকা। স্ত্রী সারা যাকেরকে নিয়ে গড়ে তোলেন দেশের বৃহৎ বিজ্ঞাপনী সংস্থা। সাম্প্রতিক সময়ে যার হাল ধরেছেন তারই পুত্র অভিনেতা ইরেশ যাকের।

 

আলী যাকের এরপর টিভি নাটকে ব্যস্ত হন। পান অসীম জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদের বেশিরভাগ নাটকে তার চরিত্রগুলো জনপ্রিয়তা পেয়েছে আকাশছোঁয়া। অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রেও। তবে মঞ্চের সঙ্গে তার সংযুক্তি ছিলো আমৃত্যু। ছিলেন দারুণ সঞ্চালকও। দীর্ঘ সময় তিনি এই কাজটি সফলতার সঙ্গে করেছেন চ্যানেল আই ও বাংলাভিশনের পর্দায়।
আলী যাকের অভিনয়ের পাশাপাশি দেশীয় বিজ্ঞাপনশিল্পের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্বও বটে। বাংলাদেশের শীর্ষ বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি-এর কর্ণধার ছিলেন তিনি।

 

ali zaker & iresh zaker
শিল্পকলায় অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদক এবং মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেছেন।

 

পৈতৃক বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের রতনপুর হলেও বাবার বেঙ্গল সিভিল সার্ভিসের চাকরির সুবাদে এক শহর থেকে আরেক শহরে ঘুরতে থাকে গোটা পরিবার। আলী যাকেররা ছিলেন চার ভাই-বোন। কুষ্টিয়া তার ছোটবেলার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর সাক্ষী। গড়াই নদীতে বড়ভাইয়ের কাছে তিনি সাঁতার কাটা শিখেন।

 

রতনপুর ইউনিয়নের ইতিহাস
উপমহাদেশের লাখ লাখ গ্রামের মাঝে যে কয়েকটি গ্রাম কিংবদন্তীর মতো হয়ে আছে রতনপুর ইউনিয়ন এদেরই একটি। মোগল সম্রাট ফররুখ শিয়ার কর্তৃক কাজী ওমর শাহকে দুটি পরগণার জাগায় প্রদানের সময় থেকেই রতনপুরের ইতিহাস হতে থাকে সমৃদ্ধ। রতনপুরের সুমহান ঐতিহ্য আর গৌরবোজ্জ্বল অতীত বিনির্মাণে যাদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্বীকার করতে হয়, তারা হলেন মোগল সেনাপতি কাজী ওমর শাহ ও তার বংশধর কাজী আবুল খায়ের, কাজী গোলাম সারওয়ার, কাজী ওমর খেত্তাব, কাজী উওহর উদ্দিন প্রমুখ। রতনপুরের অনতিদূরে কাজীরগাও মৌজার সমাহি আছেন কাজী গোলাম সারওয়ার। বৃটিশ সরকার কাজী গোলাম সারওয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নিদর্শন হিসাবে মাত্র ৫৫ একর জায়াগার উপর কাজীরগাও নামে একটি নতুন মৌজা সৃষ্টি করে। এ ধরনের দৃষ্টান্ত নজিরবিহীন।

 

সেই সুচনালগ্ন থেকে অদ্যাবধি যাদের অবদানে রতনপুর ইউনিয়নের ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়ে চলেছে এরা হলেন ত্রিপুরার মহারাজার আইন উপদেষ্টা ও চট্রগাম বিভাগের তৎকালীন অন্যতম শ্রেষ্ঠ আইনজীবী মরহুম কাজী আফতাব উদ্দিন, অভিবক্ত বাংলার সিনিয়র মন্ত্রী ও কুমিল্লা জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান মরহুম নবাব স্যার কাজী গোলাম মহিউদ্দিন ফারুকী। বৃটিশ শাসন আমলে স্থাপিত কলকাতা মহানগরীর নবাব অব রতনপুর ভবন, কুমিল্লার ফারুকী ভাবন ও দোরোগা বাড়ী, ডাকার বাবু বাজার মসজিদ, কাজীরগাও দরগাহ, সলিমগঞ্জের আবদুর রউফ উচ্চ বিদ্যালয়, দেবীদ্বারের রিয়াজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, গোয়ালন্দের নাজির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, রতনপুর আব্দুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় এবং এমনি আরও বহু প্রতিষ্ঠান রতনপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তানদের স্মৃতিকে ধারন করে চলেছে।

 

রতনপুর ইউনিয়নের চলমান ঐতিহ্যকে আরও মহিমান্বিত করে চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসাবিদ, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও সমাজসেবীরা। নতুন প্রজন্মের বিভিন্ন পেশাজেবী দেশ-বিদেশে অনেক গুরুত্বপুর্ন দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। রতনপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অতীতে তাদের প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে যেমনিভাবে পেয়েছিলেন নবাব-নাইট-স্যার-খান খেতাব তেমনিভাবে এখনও পাচ্ছেন একুশে পদকসহ অন্যান্য সম্মানসূচক পদক। রতনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা পুলকিত হয়ে যখন টেলিভিশনের পর্দায় প্রতিনিয়ত দেখতে পায় তাদের স্বজনদের কয়েকজনকে। সংবাদপত্রের পাতায় খবর হয়ে বা লেখক হয়ে আসেন অনেকে।
Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। Email: Info@mirchapter.com
google.com, pub-4867330178459472, DIRECT, f08c47fec0942fa0