প্রথম যেদিন ট্রেনে- আহসান হাবীব।

প্রথম যেদিন ট্রেনে- আহসান হাবীব।

আমি ট্রেন দেখেছি কিন্তু কখনো উঠি নাই। ট্রেনের ঝিকঝিক শব্দ আসলেই অনেক সুন্দর। এর আগে ট্রেন নিয়ে অনেক খেলা করেছি, সবাই সবার ঘাড়ে হাত রেখে ঝিকঝিক করে ট্রেন চলছে এই খেলা।
যাক একদিন সোভাগ্য হলো ট্রেনে যাত্রা করার। আমারা এক আত্মীয় বাড়িতে যাব, সেখানে ট্রেনে করেই যাবো শুনলাম। ট্রেনে যাবো শুনে আমার খুব ভালো লাগছিলো। আমরা যশোর থেকে আলমডাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেনে যাত্রা করবো, প্রায় ১৫০ কিলোমিটারের একটা পথ। টিকিট কাঁটা হলো, ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি। ট্রেনের আসার সময় হয়ে গেলেও ট্রেন এখনও এসে পৌছায়নি। আসলে বাংলাদেশের ট্রেনগুলো এমনই হয়। অবশেষে ট্রেন আসলো ট্রেনে উঠলাম। অনেক ধরে ট্রেনের ভিতরে দাড়িয়ে আছি, সিট পাইনি।

 

ট্রেন ছাড়ার কোনো নামগন্ধই পাচ্ছিনা। অনেকক্ষণ পর ট্রেন ছাড়লো। ট্রেনটা খানিক পথ যেতে না যেতেই থামলো। আমি তাকিয়ে দেখলাম এখানে কোনো স্টেশন আছে নাকি, দেখলাম স্টেশন নেই কিন্তুই কিছু লোক বসে আছে মনে হয় এই ট্রেনে যাবে। মাকে জিজ্ঞেস করলাম মা ট্রেন না প্রত্যেক স্টেশনে থামে? মা বলো হ্যাঁ। আমি বললাম মা তাহলে এই ট্রেন এখানে থামলো কেনো? মা বললো এই ট্রেন যেখানে লোক থাকে সেখানে থামে। ট্রেন আবার যাত্রা শুরু করলো এর পরে কালিগঞ্জ স্টেশনে থামবে। আমি আপুর কাছে বললাম (আমি আপু আর মা তিনজন যাচ্ছিলাম) আপু আমরা বসবো না? আপু বললো সামনের স্টেশনে জায়গা খালি হয়ে যাবে তখন বসবো। সামনের স্টেশনে কিছু জায়গা খালি হলো তার মধ্যে থেকে আমরা দুইটা সিট পেয়েছি। একটাই মা আর একটাই আপু বসেছে, আর আমি মায়ের কোলে বসেছি। আমার আসলে ট্রেনটা দেখে আমাদের ওখানকার লোকাল বাসের মতো মনে হচ্ছিল। এভাবে অনেকটা দূর যাওয়ার পর আমিও বসতে পারলাম।

 

অবশ্য ট্রেনের মধ্যে অনেক ধরনের খাবার পাওয়া যাচ্ছিলো। কেউ কলা, কেউ বাদাম, কেউ সমপাপড়ি ইত্যাদি আরো অনেক ধরনের খাবার বেচাকেনা চলচ্ছিলো। আমি কলা এবং সমপাপড়ি খেলাম। কলার দাম ছিলো খুবই কম। সামনে বসেছিলো এক অঙ্কেল তিনি কলা কিনে আশেপাশের অনেককে খেতে দিচ্ছিলেন। দাম কম হয়তো তাই, দাম বেশি হলে দিতো কি বলতে পারবো না। মজার ব্যাপার হলো ট্রেন থেকে প্রকৃতির আলাদা একটা রুপ দেখা যায়। ট্রেনের যাওয়ার সময় অনেক ধরনের কৃষি ফসল দেখলাম, তার মধ্যে সব আমি চিনিও না। আমি কৃষি পরিবারেরই ছেলে কিন্তু সব ধরনের ফসলতো আর আমাদের ওখানে চাষ হয় না, যে কয়টা চাষ হয় আমি সেই কয়টাই চিনি।

 

কৃষি ফসলের মধ্যে বাঁধাকপি এবং ফুলকপি দেখা ভালোই লাগছিলো। ঐ জায়গায় মনে হচ্ছিল যে কপি ছাড়া আর কোনো কিছু লাগানো হয়না। জায়গাটার নাম অবশ্য আমি বলতে পারবো না, কিন্তু এটা যশোর জেলার ভিতরেই হয়তো হবে। এভাবে অনেক সময় পার হয়ে গেলো ট্রেনটা হঠাৎ আবার থেকে গেলো। এটা একটা স্টেশন কিন্তু এই স্টেশনের নাম আমি জানিনা। কিন্তু অনেকক্ষন হয়ে গেলো ট্রেন ছাড়লো না। আমি আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম আমি ট্রেন ছাড়ছে না কেনো। আম্মু বললো ট্রেন ক্রস করছে। আমি বলছি আমাদেরটা আগে গেলে কি ঐ ট্রেনটাও আমাদের মতো দাঁড়িয়ে থাকবে, মা বললো না ওটা ইন্টারসিটি ঐটা বড় বড় স্টেশন ছাড়া দাঁড়ায় না। আমি বললাম তাহলে আমাদের এটা কি? মা বলে এটা লোকাল ট্রেন। আধাঘন্টার ও বেশি সময় পর ট্রেন ছাড়লো। কিছুক্ষন পর চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনে পৌছালাম। অনেক বড় স্টেশন। অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে ট্রেনে উঠবে বলে। এখান থেকে আলমডাঙ্গা আর বেশিদুর না। অবশেষে কিছুক্ষনের মধ্যে আমাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌছায় গেলাম। ট্রেন থেকে নেমে যেই স্টেশন দাঁড়ালাম দেখলাম আর একটা ট্রেন আসতেছে।

 

ট্রেনটা দেখতে পুরোপুরি সাদা আর প্রচুর গতিতে এসে দাঁড়ালো। ট্রেনটা এতো গতিতে এসে দাঁড়ালো যে স্টেশন ধুলো ধুলো হয়ে গেল। যাইহোক আমরা আমাদের আত্বীয় বাড়ি গেলাম। দুই তিনদিন পর আবার ফিরে যাওয়ার জন্যে স্টেশনে আসলাম। আমি আগে থেকেই বলে রেখেছি লোকাল ট্রেনে কিন্তু যাবো না। আম্মু বললো টাকাতো তোমার ইনকাম করতে হয়না। আমি আসলে কথাটা বুধলাম না। এবার আমরা একটা ইন্টারসিটিতে যাবো নাম ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’। টিকিট নিলো ১১০ টাকা করে আর লোকালের টিকিট নিয়েছিলো ৪০ টাকা করে। এবার বুঝলাম যে আমরা কম টাকায় আসার জন্যে লোকাল ট্রেনে আসছিলাম। ইন্টারসিটি আসার আগে একটা লোকাল ট্রেন আসলো যার বডি আমি দেখতে পারছিনা। আসলে ট্রেনটিতে ভিতর সহ চারপাশ দিয়ে মানুষ আর মানুষ। যাক কিছুক্ষনের মধ্যে আমাদের কাক্ষিত ট্রেন এসে হাজির। আমরা যশোর স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দিলাম।
Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। Email: Info@mirchapter.com
google.com, pub-4867330178459472, DIRECT, f08c47fec0942fa0