ফ্রেশারদের জন্য সিভি রাইটিং এবং ইন্টারভিঊ টিপস- এস এম আহ্‌বাবুর রহমান।

১. আপনার সিভিতে নিজের সম্পর্কে যা লেখা আছে সে বিষয়ে সম্যক ধারনা থাকতে হবে।

২. প্রায়ই দেখা যায় অন্য কারো সিভি থেকে কপি করে নিজের সম্পর্কে এমন কিছু বিশেষন লিখেছে যার অর্থ উনি নিজেই জানেন না. আপনি যা লিখবেন তার অর্থ জেনে নিবেন। এবং যে বিশেষন টা আপনার সাথে মানানসই না সেটা লিখবেন না।

৩. আবার দেখা যায় এমন অভিগ্যতার কথা লেখা থাকে যা সম্পর্কে উনার কোন ধারনাই নাই।

যেমন, লিখা থাকে Msword, Excel, power point , Access সব জানে, যখন প্রশ্ন করা হয়, Access দিয়ে কি কাজ করা হয় তখন কিছুই বলতে পারে না।

আপনি যেটা জানেন না সেটা লিখবেন না।

আবার অনেকে লিখে ইংলিশ রাইটিং, রিডিং, স্পিকিং এ এক্সিলেন্ট, কিন্ত যখন ইংরাজিতে প্রশ্ন করা হয় তখন ঠিকমত উত্তর দিতে পারে না। আপনি যদি ইংরাজিতে ভাল না হন তাহলে সিভিতে এক্সিলেন্ট লিখবেন না, লিখতে পারেন … Fair অথবা  Moderate.

৪. আপনি যদি কোথাও ইন্টার্নশিপ করে থাকেন তবে সেটা উল্লেখ করবেন।

৫. আপনাকে যিনি ভালভাবে চেনেন না রেফারেন্সে তার নাম দিবেন না।

৬. সিভিতে ক্যারিয়ার অব্জেক্টিভ যেটা লিখা আছে সেটা ভাল ভাবে বুজে লিখবেন এবং মনে রাখার চেষ্টা করবেন।

অনেক সময় দেখা যায় পাওয়ার প্ল্যন্ট এ ইন্টার্ভিউ দিতে এসেছে অথচ উনার অব্জেক্টিভ এ লিখা আছে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি তে ক্যারিয়ার গড়তে চান..!!

অন্যকারো সিভি অনুসরণ করা দোষের কিছু না, কিন্তু অনুকরণ করবেন না।

প্রসঙ্গ: ইন্টারভিউ

১। ইন্টারভিউতে সাধারণত প্রথমেই নিজের নাম জিজ্ঞেস করা হয়, অনেকে বলে I am Mr. Rahim. এটা ঠিক না, নিজের নামের সাথে Mr. বলতে হয় না। আবার অনেকে বলে আমার নাম Md. Rahim, বলার সময় Md বলবেন না, বরং Mohammad পুরোটা বলবেন। নিজের নামের অর্থ জেনে যাবেন, যদি নাম টা একটু এক্সসেপশ্নাল হয় তাহলেতো কোন কথাই নাই, নামের অর্থ জিজ্ঞেস করবেই।

২। এরপর আপনার নিজের সম্পর্কে বলতে বলবে। এ জন্য আপনাকে আগে থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আপনি আপনার নিজের সম্পর্কে ছোট করে একটা বর্ননা বাংলা এবং ইংরেজিতে লিখে মুখস্ত করে ফেলতে পারেন এবং প্রতিবার ইন্টারভিউ তে যাওয়ার আগে আয়নার সামনে একা একা দাঁড়ায়ে প্র্যাকটিস করে যাবেন। যেন যে ভাষা তেই জিজ্ঞেস করুক না কেন আপনি যেন সাবলীল ভাবে বলতে পারেন। বর্ননাতে যা থাকতে হবে… আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ, ইন্টার্নশিপের / কাজের অভিজ্ঞতা (যদি থাকে), আপনার Strength, Extra Curricular Activities (for example, Debating, Scouting, Sports ইত্যাদি।) যেগুলু আপনার Leadership Quality কে Highlight করবে এরকম কিছু,

৩।   নিজের সিভি ( নিজে লিখেন বা সিভি রাইটারদের কে দিয়ে লেখান কিংবা কপি পেস্ট করেন) ভাল ভাবে স্টাডি করে যাবেন।

৪. জব এডটা ভাল ভাবে পড়ে যাবেন, (কোন পদের জন্য ইন্টারভিউ দিচ্ছেন, জব রেসপন্সিবিলটি, জব লোকেশন)

৫।. ঐ কোম্পানির ওয়েব সাইট দেখে যাবেন( তাদের বিজনেস, প্রোডাক্ট, মালিক কারা ইত্যাদি)।

৬. আপনার সাবজেক্ট এর উপর বেসিক টপিক গুলু পড়াশোনা করে যাবেন।

যেমন আপনি যদি এইচ আর এর স্টুডেন্ট হোন তাহলে এইচ আর এর বেসিক টপিক ; Core functions of HR, Recruitment & selection process, Job Analysis, Few methods of Performance Appraisal , TNA, Different types of Training etc. দেখে যেতে পারেন।

আবার আপনি যদি একাঊন্টিং এর স্টুডেন্ট হোন তাহলে, ডেবিট, ক্রেডিট সম্পর্কে স্বছ ধারনা থাকা, জার্নাল, লেজার, ইনকাম স্টেটম্যান্ট, বেলেন্সশিট, আর ও আই ইত্যাদি দেখে যেতে পারেন।

৭। এন্ট্রি লেভেলের এমপ্লইয়িরা অনেক সময় অন্যকারো সিভি থেকে জব রেস্পন্সিবিলিটি কপি করে লেখে যা সম্পর্কে তাদের স্বছ ধারনা থাকে না। যেমনঃ সিভিতে লেখা আছে উনি লিভ মেনেজম্যান্ট করেন, যখন প্রশ্ন করা হয় ম্যাটারনিটি লিভের প্রসেস টা বলেন তো, অথবা এনুয়াল লিভের ক্যাল্কুলেশন টা বলেন তখন ঠিক মত বলতে পারে না।

আবার অনেকে লেখেন উনি এমপ্লইয়ির যাবতীয় ওয়েলফেয়ার মেনেজম্যান্ট দেখাশোনা করেন, যখন WPPF/ Gratuity/ PF নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তখন ঠিকমত বলতে পারে না।

মনে রাখবেন আপনার সিভিতে আপনার জব রেস্পন্সিবিলিটি যা লেখা থাকবে সে সম্পর্কে পুরোপুরি ধারনা থাকতে হবে। দরকার হলে আপনি বই পড়ে অথবা সিনিয়রদের হেল্প নিয়ে কিংবা নেট থেকে প্রস্ততি নিতে পারেন।

৮। কনফিডেন্স এর সাথে উত্তর দিবেন। আপনার কথা শুনে যেন মনে না হয় যে আপনি কনফিউসড। কোন প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে বিনয়ের সাথে বলবেন আমার জানা নাই। অনেকে বলে এই মুহুর্তে আমার মনে নাই, তখন কিন্তু আপনাকে কিছু ক্লু দেওয়া হবে যাতে আপনার মনে পড়ে তখন যদি বলতে না পারেন মনে করা হবে আপনি মিথ্যা বলছেন। তাই সরাসরি জানা নাই বলাই ভাল। সব প্রশ্নের উত্তর জানা থাকবে এমন ৯। আপনার অন লাইনের সিভি যদি আপডেটেড না থাকে তাহলে ইন্টার্ভিউতে যাওয়ার সময় সাথে করে একটা আপডেটেড সিভি নিয়ে যাবেন।

ভালভাবে প্রস্তুতি না নিয়ে ইন্টারভিউতে যাওয়া উচিত হবে না। কারন সুযোগ বারবার আসে না। একটা পদের জন্য জব এর এড দিলে ১০০০-১৫০০ ক্যান্ডিডেট এপ্লাই করে সেখান থেকে ১৫-২০ জন কে ইন্টারভিউ তে ডাকা হয়।  এই সুযোগ কে ভালভাবে কাজে লাগাতে হবে।

এস এম আহ্‌বাবুর রহমান

হেড অব এইচ আর, ডরিন পাওয়ার

print

কমেন্ট করুন