সমস্যা আমাদের নিজেদের, না আমাদের সমাজের ?- ফারহানা কলি।

আমার প্রতিবেশি একজন দক্ষিণ আমেরিকান । ভদ্রলোক এখানে আছেন প্রায় বিশ বছরের বেশি সময় ধরে । তিন ছেলে । স্রী ক্যান্সারে মারা গেছেন বছর তিনেক হলো ।
আমরা একে অপরের প্রতিবেশি হলেও আমরা কেউ কাউকে খুব একটা দেখি না। কারণ এখানে কেউ কাউকে দেখার মতো এতো সময় নাই ।তবুও দেখা হলেই সহাস্যে একে অপরকে কুশলাদি জিজ্ঞাসা করি । অদ্ভুত ব্যাপার হলো ভদ্রলোকের তিন ছেলের দুই ছেলেই এখানে থাকে না ।
ভদ্রলোক আর তার ছোট ছেলে এখানে থাকেন । বাকী দুই ছেলে থাকে অন্য শহরে ।লং উইকেন্ড গুলোতে আসে হৈ হুল্লোর করে খেয়ে দেয়ে যার যার মতো চলে যায় । ছোট ছেলে তার নিজের মতো গার্ল ফ্রেন্ড নিয়ে থাকে । কোন দিন একটা কথাও শুনি না । দেখি মাঝে মাঝে আসে যায় ঐ টুকুই । এই তিন বছরে ভদ্রলোক আমাকে যতো দিন দেখেছেন নিজেই এসে কথা বলেছেন । কেমন আছি জানতে চেয়েছেন।
কিন্তু তার মাঝে কোন দিন শুনিনি কোন কমপ্লেইন , কোন অনুযোগ, অভিযোগ । ভালো লেগেছে আরো একটা কারণে তা হলো ভদ্রলোক তিন বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও মনে করেন না তার বিয়ে করতে হবে । তার কাউকে লাগবে । এই জন্য বললাম কথাগুলো আমাদের সমাজে বা দেশের একশত ভাগ পুরুষকেই দেখি বউ মরে যাওয়ার পর দিনই উঠে পরে লাগে বিয়ে করার জন্য ।পারলে সেদিনই করে ফেলে ।
অথচ আমি শুধু আমার প্রতিবেশি বলেই নয় , এমন হাজারো ভদ্রলোক এবং ভদ্র মহিলাদের এদেশে দেখছি তারা একাই থাকছেন । ছেলে মেয়ের উপরও তাদের কোন অভিযোগ নেই । তাহলে আমাদের সমাজে মানুষগুলো কেন পারছে না ? তাহলে সমস্যা কি আমাদের নিজেদের না আমাদের সমাজের ?
~ফারহানা কলি
১০.২৬.২০১৯
নিউ ইর্য়ক ।

কমেন্ট করুন