লিলি – আনোয়ারা আজাদ

আমাকে যখন শশুর বাড়ি থেকে একবাক্যে বের করে দেওয়া হলো কষ্ট পেয়েছিলাম খুব কিন্তু বিশ্বাস করুন ভড়কে যাইনি, ওটা আমার স্বভাবও নয়। বরাবরই আমি প্রতিবাদী টাইপের, সম্ভবত জন্মের পর থেকেই। বেশিরভাগ রূপবতি মেয়ের বুদ্ধিশুুদ্ধি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে হাসাহাসি করলেও আমার বেলাতে সেটা কখনো ঘটেনি। কেন আমার বেলায় হয়নি সেটা নিয়ে অন্যেরা বাতচিত করে কিনা জানা না থাকলেও বিষয়টা নিয়ে আমি নিজেই ভাবি। আর ভাবতে গিয়েই মনে হয় কেউ একজন আমার সাথে আছে যাকে আমি দেখতে পাচ্ছিনা কিন্তু সে আমাকে দেখছে, তার অস্তিত্বও যেন টের পাই। তার কথাও শুনি আমি, কখনো মনে হয় কেউ একজন আমার সাথে হাঁটছে কিংবা আমিও যেন আমি নই, অন্য কেউ।
বরের সাথে বনিবনা না হওয়ার ঘটনাতো আর দুএকটা নয়, ভুরি ভুরি। মেয়েরা ম্যানেজ করে নেয়, যারা ম্যানেজ করতে পারেনা তারা গুড বাই বলে নিজের রাস্তা দেখে। শুনেছি বনিবনা না হওয়ার আশি শতাংশ কারণই হলো শারিরীক ঝামেলা সংক্রান্ত। বাকি বিষয়গুলো ‘বকওয়াস’, যদিও আসল সমস্যা এড়িয়ে এই বকওয়াসগুলো নিয়েই দৌঁড়ঝাঁপ হয়। চাল চলনের দোষতো ‘ভেরি কমন’। সবই শোনা কথা, তবে আমার বিষয়টাও ঐ শারিরীক হওয়াতে শতভাগ নিশ্চিত আমি, ব্যাপারগুলো শারিরীকই।

সুন্দর স্বাস্থ্য, ঝকঝকে চেহারার বর যেদিন প্রথম উপগত হলো আমার ওপর সেদিন থেকেই ঝামেলা শুরু। এতো বেশি ওজন মনে হচ্ছিল যে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। তাকে নামতে বলায় ক্ষেপে গেলে আমারও মেজাজ চড়ে গেলো। কেন, তোমাকেই ওপরে থাকতে হবে কেন? আমি ওপরে থাকলে সমস্যা কী? তো, সমস্যাটা শুরু হওয়ার পর থেকেই বর আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিল, এটাই নিয়ম। কিন্তু ওজন সহ্য করে নিয়মটা মানতে কিছুতেই রাজী হচ্ছিলামনা আমি, সাথে আরও কিছু বিষয় তো থাকেই। সুন্দরী মেয়ে আমি, তবে আহাম্মক নই। নিজের অধিকার আদায় করার জন্যই আমার জন্ম। ফলে যা হবার তাই হলো, বরাবরের মতো নারীর চরিত্র হনন করে গলা ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হলো।

ঐ যে প্রথমেই বলেছি, ভড়কে যাইনি, শক্ত মনের মেয়ে আমি। যত প্রলোভনই দেখাক না কেন, কোনো লাভ নেই। আমি আমার মতো বেঁচে থাকার পথ বের করে নিতে পারি। আর শুনুন আপনারা, আমি একাও নই, আমার সাথে কেউ একজন থাকে, পাশে পাশে হাঁটে, ফিসফিসিয়ে কথা বলে।
তবে সে আমার ছায়া নয়। আমি খাটো মানুষ, ছায়াও খাঁটো আমার, সে অনেক লম্বা, আড়চোখে মাঝে মাঝে দেখি। একদিন পাশাপাশি হাঁটার সময় সে আমার নাম জিজ্ঞেস করলে বলি, আমার নাম লিলি, তোমার নাম?
প্রচণ্ড হাসির দমকে দুরে অন্ধকারে সরে যেতে যেতে সে বলে, তুমি লিলি, আমি লিলিথ। কখনো নাম শোনোনি আমার?

কমেন্ট করুন