যিশুর মিথ- সৈয়দ কবির মাসুদ

যিশু ক্যারেক্টার টি একটি মিথ হবার চান্স ৯০%। তাকে নিয়ে বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্ট এ বর্ণনা করা অলৌকিক ব্যাপারগুলোকে মিথ হিসেবে আইডেন্টিফাই করা খুব ই সহজ বা ব্যাপারগুলো লৌকিক নয়। আলৌকিক কোনো ঘটনাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করলে করা যায় কিন্তু র‍্যাশনালি চিন্তা করলে অনেক প্রশ্নই এসে যায়। এছাড়াও যিশু ক্যারেক্টারটির কোনো অস্তিত্ব ছিল কি না, সেটি নিয়েও সন্দেহের যথেষ্ট কারণ আছে। যেমন যিশুর আলৌকিক জন্ম নিয়ে যা বলা হয় এটি এসেছে বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট এর একটি “মিস ট্রান্সলেশন” থেকে৷ ওল্ড টেস্টামেন্ট এ একটি প্রফেসি(ভবিষ্যৎ বাণী) আছে যে গডের স্পিরিট মানব শরীরে পৃথিবীতে আসবেন। কিন্তু গডের এই জন্ম নিয়ে সেখানে যে হিব্রু শব্দ আছে প্রফেসি তে, সেই অনুসারে একজন “ইয়াং/কম বয়সী” মেয়ের গর্ভে গডের স্পিরিট মানুষ হিসেবে জন্ম নিবে৷ বাট হিব্রু এই “ইয়াং” শব্দের ভুল অনুবাদের মাধ্যমে পরে সেটিকে “ভার্জিন” মেয়ের গর্ভে জন্ম নিবে এমন প্রচার পায় বা খ্রিস্টানরা সেই শব্দকে এভাবেই প্রচার করেছে। খ্রিস্টান ধর্মের আগের বিভিন্ন পেগান রিলিজনেই এমন ভার্জিন বার্থ এর মিথ পাওয়া যায়। যেমন গ্রীক/রোমান মিথলজি বা মিশরীয় মিথলজিতেও পাওয়া যায়। তাই যিশুর জন্ম মিথ টি যাস্ট একটি ভুল অনুবাদের কারণে হবার চান্স অনেক।
যেই সময়ে খ্রিস্টান ধর্মের জন্ম হয়, সেই সময়টিতে মধ্যপ্রাচ্য ছিল রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে। আর রোমানদের ঠিক আগে আগে ছিল গ্রীকদের অধীনে৷ তাই গ্রীক-রোমান ফিলোসফি সেখানে ব্যাপক প্রচার লাভ করেছিল, বিশেষ করে ইয়াং ইহুদীদের মাঝে। এই গ্রীক-রোমান ফিলোসফির দ্বারা প্রভাবিত সেকুলার ইহুদীরা কট্টরপন্থী ইহুদিদের নিয়ে যেথেষ্ট বিরক্ত ছিল। তাই সম্ভবত সেই সেকুলার ইহুদীরাই কট্টর ইহুদি ধর্মের থেকে তুলনামূলক সেকুলার, টলারেবল একটি নিউ রিলিজন মুভমেন্ট শুরু করেন।
আর যিশুর জন্ম মিথের পর থেকে মাঝের দীর্ঘ সময় ধরে নিউ টেস্টামেন্টেই যুশির আর কোনো খোজ পাওয়া যায় না। যেমন তিনি মিশরে কিভাবে বড় হয়েছেন, এসব নিয়ে তেমন কিছুই বলা নেই নিউ টেস্টামেন্ট এ। এরপর হঠাৎ ২৮/৩০ বছর বয়সের যিশু নামক সেই যুবকের উদ্ভব হয়, যার জীবনকালের জন্মের পর থেকে মাঝের সময়ের কোনো খোঁজ ছিল না। তাই যিশু ক্যারেক্টারটি ই পুরোটাই মিথ হতে পারে। বাট সেকুলার ইহুদীদের দ্বারা শুরু হওয়া এই নিউ রিলিজন মানবজাতির জন্য আসলে ভালোই হয়েছে বলা যায়।

কমেন্ট করুন