মেয়েদের মার্শাল আর্ট জানা জরুরি – জাহাঙ্গীর আলম ।

মেয়েরা মার্শাল আর্ট শিখবে, ব্যাগে পেপার স্প্রে, বেগন স্প্রে রাখবে আবার মেকআপের পাশাপাশি!
মাইন্ড ইট!
মেকআপের পাশাপাশি ছুরি ক্যারি করবে! সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুল, কলেজ, অফিস, অন্য কাজ বা এমনি যে কোনো কারণে রাস্তায় বেরোনোর সময় মনে রাখবতে হবে, তারা আদতে যুদ্ধ করতে বাহির হচ্ছে!
তারা রাস্তাঘাটে নিজের মতো হাঁটতে পারবো না! বাসে গান শুনতে শুনতে বা বই পড়তে পড়তে গন্তব্যে ফিরতে পারবে না! শুধু ভাববে, এই বুঝি একটা হাত এসে তাকে নোংরাভাবে ছুঁয়ে দেবে! তাই সবসময় এলার্ট থাকতে হবে, তাই না? কেন ভাই? সব শুধু নারীরাই শিখবে আর শিখেই যাবে? আর আমরা/পুরুষ? আমাদের কিছু শেখার নেই? নারীদের আত্মরক্ষার ভার নারীকে নিতে হবে? তাদের নিজেদের সেপ্টির জন্য মার্শাল শিখবে বা শিখছে সেটাকে অভিবাদন জানানো আপনার আমার (পুরুষ)আমাদের নৈতিক দায়িত্ব কর্তব্য, ব্যাস এতোটুকু?
পুরুষ হিসেবে আপনার আমার লজ্জা হওয়া উচিৎ! একটা নারীকে রাতে বেরোতে হলেও আপনার মত একজন পুরুষ সংজ্ঞী লাগে, ঠিক তার বিপরীতে আপনার মত পুরুষ থেকে প্রোটেকশন দেওয়ার জন্য! আপনি পুরুষ যদি মনে করেন নারী দেখলেই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে ইচ্ছে করছে তাহলে আপনি রাতে বাড়ির বাইরে বেরোনো থেকে বিরত থাকুন।
শুনেন, এই আপনারা/আমাদের সমাজই ধর্ষক তৈরি করে, ধর্ষক কোন ভিনগ্রহী প্রাণী নয়।
নারীদের সুরক্ষা নিয়ে সত্যি যদি চিন্তিত হউন, তাহলে আপনি পুরুষ সহ আপনার সহপাঠী পুরুষ ভাই, বন্ধু, পুত্র সন্তানদের সেনসিটাইজড করার চেষ্টা করুন! প্রয়োজনে সেমিনার ওয়ার্কশপ আয়োজন করুন পুরুষদের জন্য! মহিলাদের মা, বোন, বৌ, দেবী, মাল এসব না ভেবে মানুষ ভাবতে শেখান! দেখবেন, সহজেই ধর্ষণ কনসেন্ট-এর মানে বুঝতে পারবেন!
আর মহামান্য রাষ্ট্র,
বাসে, ট্রনে, দেয়ালে নারীদের জন্য পুলিশ হেল্প-লাইনের ফোন নাম্বার না টাঙ্গিয়ে দরকার পড়লে পুরুষদের জন্য হেল্প-লাইন নাম্বর চালু করুন! এবং পাশাপাশি আপনার অপার্থিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যৌনশিক্ষা পাঠদান চালু করুন। অন্যথায় মঞ্চে দাঁড়িয়ে নারী আত্মরক্ষার পদক্ষেপ নিয়ে ভাষণ দেওয়া বন্ধ করুন। কারন আপনার নেওয়া পদক্ষেপ গুলো হল প্রবাদ-প্রবোচন “চোরকে বলো চুরি করতে, গৃহস্থালিকে বল সজাগ থাক” এর মত!
এই সমাজ ছোটবেলা থেকে পুরুষকে সিংহ হিসেবে বড় হতে বাধ্য করেছে! নারীদের রক্ষা করার ভার তুলে দিয়েছে তাদের কাঁধে! তাই, কোনো নারী ওদের মন জুগিয়ে না চললে তাকে উচিৎ শিক্ষা দেওয়াটা ওরা নিজেদের সামাজিক কর্তব্য মনে করতে শিখেছে!বাবা-মা ছোটবেলায় মারধোর করেন আমাদের ভালোর জন্য! তাই না? তার মানে যে ভালোবাসে সে তো মারতেই পারে! তাই না? রাস্তায় সন্ধের পর বেরোলে পাড়ার কাকু, জেঠু, বড় ভাই, অমুক, তমুক প্রশ্ন করে নারীদের, কারণ তারা তো তাদের ভালো চান! তাই না? কিন্তু পুরুষের বেলায় এসব হয়না!
এই যে ছোট ছোট চোখে না পড়া, অভ্যস্থ হয়ে যাওয়া এক একজন পুরুষকে রেপিস্ট তৈরি করে।
কোন মহামারী একদিনে শেষ হয়না। সময় লাগবে, কিন্তু আজ না হোক আমাদের পরের বা তারও পরের প্রজন্মটা অন্তত সুস্থ ভাবে বাঁচতে পারবে।
যেমন- থাবড়া খেয়ে মরে যাওয়া মশাটার বডি দেখে অন্য মশারা ভয় পায় না। কার কি হল, তাদের পাত্তা না দিয়ে বরং নিজে কি করে আপনার আমার রক্ত চুষবে সে ফন্দি আটে। তাই ঠাস ঠাস থাপ্পড় দিয়ে মশা মেরে ডেঙ্গুর সাথে লড়া যায়না। তারজন্য মশার পয়দা হওয়া আটকাতে হয়। ওই থাবড়ানি, মশারী টাঙানো, গরুর ল্যাজ নাড়া সবই ম্যানেজ টেকনিক মাত্র। কি বোঝাতে চাইছি, আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
তাই আজ, এই মুহূর্তে নিজেদের বাড়ি থেকেই ধর্ষকের জন্ম আটকানো হোক। ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে, জ্ঞান ধরছে এমন প্রতিটা বাচ্চাকে শেখানো হোক সমানাধিকার কাকে বলে? যৌনতা কি? রেফ কি? সমকামিতা-বায়সেক্সুয়াল কি? তার মজ্জায় ঢুকিয়ে দেওয়া হোক জেন্ডার বায়াস একটা অপরাধ। মানুষ হতে হতে পুরুষ বা মহিলা হয়ে ওঠার আগে তার রন্ধে রন্ধ্রে ঢুকিয়ে দিন এসব।
ধন্যবাদ

কমেন্ট করুন