মেয়েদের জীবনে অপশন আসুক – শিল্পী জুলী।

সেদিন এক মেয়ে এসেছিলেন ক্লিনিকে হাঁচি দিতে গিয়ে প্যান্ট ভিজে গিয়েছে তার।রোগী না হলেও তাকে নিরিবিলি একটি রুম দিয়ে বড়দের ডায়পারসহ কাগজের নীল শর্টস দেয়া হলো যেনো সে ওসব পরে নিরাপদে বাসায় যেতে পারে। আমেরিকার অনেক প্রতিষ্ঠানেই বয়স্ক এবং বাচ্চাদের ডায়পারসহ মেয়েদের জন্যে প্যাড, টেম্পন রাখা হয় যেনো হঠাৎ করে বিপদগ্রস্হ জনতা এই মানবসেবা পেতে পারে বিনামূল্যে।
সম্প্রতি, প্যাড এবং প্যাডের উপর ভ্যাট সংক্রান্ত কয়েকটি লেখা পড়লাম। তাতে মনে হলো এখনও আমাদের দেশের মেয়েরা কাপড় এবং প্যাড দু’টি পদ্ধতিই জানে ঋতুস্রাবকে হ্যান্ডেল করতে। কাপড়ের সাথে যেমন ধোয়াধুয়ির বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় তেমনি প্যাডে থাকে লিকিংয়ের সমস্যা। প্যাড সংখ্যায়ও সীমিত থাকে যেটা প্রয়োজনে বার বার চেঞ্জকে সমর্থন করে না। তাই ঋতুস্রাব হ্যান্ডেলেও উদ্ভাবনি শক্তির প্রয়োগ এবং সৃষ্টিশীলতা জরুরি। যেমন প্যাডের মধ্যে এক্সট্রা কটন ব্যবহার করা যেটা লিককে কন্ট্রোল করবে আবার বার বার চেঞ্জেরও সহায়ক– সর্বদা ফ্রেশ ফিলিং।
আমেরিকাতে ঋতুস্রাবে প্যাড, টেম্পনসহ নানাবিধ কাপের ব্যবস্হা আছে। মেয়েরা সহজেই পছন্দমত একাধিক পন্হা বেছে নিতে পারে। সিলিকনের তৈরী একটি দিবা কাপ কিনলে হেবি ব্লিডিংকালীন সময়ে একাধিকবার ধুঁয়ে ব্যবহার করা যায় যেটি সর্বদা ক্লিন ফিলিং দেয়। এই কাপ একবার ৫০ ডলার দিয়ে কিনলে থেকে যায় বছরের পর বছর। সাথে অবশ্য একটি প্যাড ব্যবহার করতে হয় যেনো হঠাৎ লিকিংয়ে বিপদ না ঘটে। নানা সাইজের কাপ আছে যেটা বয়সভেদে এবং সন্তান থাকা না থাকার উপর নির্ভর করে বেছে নিতে হয়।
ঋতুস্রাব কন্ট্রোলেও একটি মূল ও একটি সহায়ক প্লান রাখা দরকার অবস্হা এবং সুবিধা অনুযায়ী। শুধু প্যাড শতভাগ নিরাপওা দিতে অনেক ক্ষেত্রেই অপারগ। ভ্যাট বন্ধের আন্দোলন যদি শুরুই হয় তাহলে একাধিক কৌশলের অপশনেরও আন্দোলন হোক। মেয়েদের জীবনে অপশন আসুক।