বসন্তের স্পর্শ – জহিরুল ইসলাম।

তোকে নিয়ে আমার লিখতে খুব ভালো লাগে, আবারো লিখতে বসে গেলাম, তোর ভালোবাসাটা আমাকে সত্যিই পেয়ে বসেছে, তোকে নিয়ে ভাবতে সত্যিই খুব ভালো লাগে, সত্যি কথা বলতে হাসতে হাসতে কখন যে ভালোবেসে ফেলেছি বুঝতে পারিনি,
ভালোবাসাটা হয়তো এভাবেই হয়ে যায়, কেউ কিছু বুঝতে পারেনা, উপরওয়ালার রহমত ছিলো বলেই আমিও তোকে পেয়েছি আমার এই সন্ধিক্ষনে, কাউকে মন দিয়ে ভালোবেসে যদি পেয়ে থাকি তাহলে আমি তোকেই পেয়েছি, তুই আমার ভালোবাসার আরতি, আরতির সাথে আমার প্রথম কথাটা হয় ২০.০৬.২০১৮ সন্ধা নয়টা হবে তখন, যদিও একটা বন্ধু আগেই সব ঠিক করে দিয়েছিলো তা না হলে হয়তো আমি কথা বলার সাহস পেতামনা ,
আমার সাথে আরতির প্রথম কথাটা হয় ফেইসবুক মেসেঞ্জারে এরপর ফোন নাম্বার আদান প্রদান, সেই সময়টাতে আমি সময় দিতে না পারাতে আমাদের সম্পর্কটা ১০-১৫ দিনের বেশি স্থায়ী হলোনা, ব্যাশ আবার চলে গেলাম দুজন দুজনের নিজের রাজ্যে, প্রায় ৭-৮ মাস পর আবার হঠাৎ আমার মেসেঞ্জারে আরতির মেসেজ আমাদের ওইদিকের রাস্তাটা একটু ভালো করে কইরেন, তারপর এক কথা দু কথায় আবার আমি আমার আরতিকে প্রপোজ করে বসি, যাই হোক সেইদিন তাকে ম্যানেজ করতে খুব কাঠখর পোহাতে হলেও আমার কিন্তু তাকে আমার ভালোবাসার কথা বলতে ভালোই লাগতেছিলো এবং একটা সময় সে সতিই হ্যা বলে ফেললো,
আমি কিছুক্ষন অবাক হয়ে ভাবলাম শীট যদি আরেকটু দেরি করে হ্যা বলতো তাহলে তাকে আমি আরো একটু আমার ভালোবাসার কথাটা জানাতে পারতাম তবে যাই হোক এর পরেও আমি আমার আরতিকে আমার ভালোবাসার গভীরতাটা যে তার প্রতি কতটা তা হয়তো এখন তার ভালো করেই জানা, কথা বলতে বলতে আমি আর আরতি একটা সময় আমার হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছি, হাসি কান্না এ নিয়ে ভালোই চলছে আমাদের দুজনের ভালোবাসা,
প্রথম যখন আমি আরতিকে নিজের চোখে দেখি আমি কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছি, বোরকা পড়া থাকলেও প্রথম দেখেই দূর থেকে আমি আমার আরতিকে চিনতে বিন্দু মাত্র কষ্ট হয়নি যে আরতিই আমার দিকে এগিয়ে আসছে এটাই আমার আরতি, আস্তে আস্তে যখন সে আমার সামনেই এসে পড়লো আমি একটু লজ্জা মুখে তার দিকে দৃষ্টি দিলাম, আমি সত্যিই তাকে দেখে দৃষ্টি নামাতে পারছিলামনা লজ্জা ভূষন চোখেও কিচুক্ষন তাকিয়ে ছিলাম তার দিকে,
এ আমি কি দেখছি এ এতো মনে হচ্ছে আমার সামনে আকাশ থেকে পরীটা এসে দাঁড়িয়ে আছে, আমি দৃষ্টি সরাবো কি করে পরীটার থেকে, তারপরও দৃষ্টি যে সরাতেই হবে কারন রাস্তায় দাঁড়িয়েতো সব কথা বলা যাবেনা, দুজন মিলে একসাথে হেটে হেটে একটু এগিয়ে একটা কমদামি রেস্টুরেন্টে বসলাম, আমি আরতির পাশাপাশি না বসে একটু ভালো করে দেখার জন্য তার বিপরিতে তার সন্মুখে বসলাম, আমার তাকে বোরকা মুখোশ খুলতে বলতে একটু ভয় হলেও একবার বলেই ফেললাম মুখোশটা একটু খুলো,
বলাতেই সে মুখোশটা খুলে ফেললো, আমি তো এখন আরো বেশি রোমান্টিক হয়ে গেলাম, আরতির চোখে কি মায়া উফফফ না দেখলে কেউ বিশ্বাসই করতে পারবেনা, আসলেই যেন উপরয়ালা নিজ হাতেই কারুকার্য করে দিয়েছেন ওই চোখে, আমি সত্যিই চোখ দেখে আর তার অন্য কোথাও তাকানোর কথা ভুলেই গিয়েছি, কিছুক্ষন পর মনে হলো রেস্টুরেন্টে তো বেশি দেরি করা যাবেনা আর সন্ধাও প্রায় নেমে আসছে তাকেও তো বাসায় ফিরতে হবে যদিও ছাড়ার কোন ইচ্ছে হচ্ছিলোনা, ফেছন দিকে ফিরে অর্ডার দিয়ে মুখ ঘুরে যখন তার চোখের দিকে তাকাবো হঠাৎ তার ঠোটে চোখ পড়ে গেলো আমি তো অবাক তার দেখছি কোনটা থেকে কোনটার সৌন্দর্য কম মনে হচ্ছেনা, ঠোটে লাল লিফিস্টিকটা পড়লে হয়তো পরিটার সৌন্দর্যটা আরো দ্বীগুন বেড়ে যেতো কিন্তু সত্যি বলতে এই সাধারনে সত্যিই খুব ভালো লাগছিলো,
একটা সময় বলতে ইচ্ছে হলো যে তাকে জিজ্ঞেস করেই ফেলি আল্লাহ কি নিজ হাতে সব কারুকার্য তোমাকেই দিয়ে দিয়েছে নাকি, কিন্তু তা বলার সাহসটা তখনো হচ্ছিলোনা আমার, তার ঠোটের দিকে তাকাতে হঠাৎ সে কেন যে একটু মুছকি হেসে দিলো আমার বুঝতে বাকি ছিলোনা যে এটা আসলেই আমার সামনে আকাশ থেকে পরিটাই এসে বসে আছে, তার হাসিটা নিয়ে যদি বলি চোখ, ঠোট, এবং হাসি হাসিটা দেখে আমি আর কেনজানি নিজকে পারছিলামনা কন্ট্রল করতে ইচ্ছে হচ্ছিলো তার ঠোটের সাথে নিজেকে মিলিয়ে নিতে কিন্তু তা যে সম্ভবনা, এটা পাবলিক প্লেস,
তবে খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো পরীটাকে একটু ছুয়ে দেখতে, বললাম হাটটা বাড়িয়ে দিতে কিন্তু তার বাহানায় আর জোর করা হলোনা, একটা সময় দুষ্টুমির ছলে ঠিকই তার হাতটা আমার হাতটাতে স্পর্শ লেগে গেল, মনে হচ্ছিলো আমি আকাশটাকে স্পর্শ করে ফেলছি এই মহুর্তে, খানিকটা সময়ের জন্য আমার জিবনে বসন্তের বাতাস বইতে লাগলো আর বসন্তটা বুঝি এতই মধুর তা হয়তো সেইদিনটা না আসলে বুঝতে পারতামনা,
সর্ব শেষে বলবো পরিটা যেন আমাকে ছেড়ে না যায় আমি তাকে সত্যিই খুব ভালোবাসি লাভ ইউ কলিজা।
print

কমেন্ট করুন