পশুকে ভালোবাসলে মানুষ আরও মানবিক হয়ে উঠে- শিল্পী জুলী।

গতরাতের আগের রাতে সিম্বা বাসায় ফেরেনি। দিনে তাকে খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। অতঃপর কাল রাতে সে বাসায় ফিরে আসে আপনাআপনিই। এসেই খাটের নীচে ঢুকে লুকিয়ে থাকে। প্লেটে করে মুখের সামনে খাবার ধরলেও ছুঁয়েও দেখেনি।
যেই সিম্বা এক সিটিংয়ে একটি ক্যান (তিন বিড়ালের খাবার) শেষ করে ফেলে সে ৩৬ ঘন্টা ধরে কিছুই খাচ্ছে না। ওদিকে বিড়াল দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে কিডনি ফেইল করে।
সকালে উঠেই তড়িঘড়ি করে দু’টো পুশুর হাসপাতালে ফোন করলাম। বলে, আজ এ্যাপয়েন্টমেন্ট দেয়া যাবে না, খালি নেই, কাল আসো। অপেক্ষা করার মত সময় নেই হাতে। সকালেও সে কিছু মুখে দেয়নি। ৩নং হাসপাতালে ফোন করে এ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া গেল।নইলে হয়ত ইমারজেন্সীতেই নিতে হতো যার খরচ হাসপাতালের চেয়ে চার/পাঁচ গুণ বেশী।
আমেরিকায় মানুষের ডাক্তারের চেয়ে পুশুর ডাক্তারের খরচ তেমন কম না। আধা ঘন্টার সার্জারিতেই সার্জনকে ফিস দিতে হয় হাজার ডলার– অপারেটিং রুমের ভাড়া, ঔষধ-পত্র, কেবিন ফি সব আলাদা। বিড়ালের কেসে এক ধাক্কায় দুই/তিন হাজার ডলারের মামলা। কুকুর হলে হয়ত আরও বেশী। রোগ এবং সার্ভিস ভেদেও চার্জ কম/বেশী হয়।
সিম্বাকে আজ দেখেছেন একজন অতি সুন্দরী মহিলা পশু ডাক্তার। সারাদিনই ছিল সে হাসপাতালে। ১০৬ ডিগ্রী জ্বর ছিল। সাথে ইনফেকশনও আছে– ব্লাড ওয়ার্কে WBC কম পাওয়া গিয়েছে। রক্তের গ্লুকোজও বেশী । শরীরের ফ্লুইড কমে যাওয়ায় স্লাইন জাতীয় কিছু দেয়া হয়েছে। এছাড়া এন্টিইনফ্লেমেটরি ও এন্টিবায়োটিকও দিয়েছে । জ্বর ১০০ ডিগ্রীতে নামিয়ে তবেই বাসায় ছেড়েছে আজ নানা ঔষধপত্র দিয়ে।
এসেই একটু খেয়ে আবারও খাটের নীচে ঢুকে যায় সে। পোষা বিড়াল যখন হাইড করে তার মানে শরীর ভয়াণক খারাপ। আজ ডাক্তার না দেখালে সে আর টিকতো কিনা সন্দেহ।বিড়াল পোষার খরচ আছে, বিশেষ করে অসুস্হ হলে। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বেঁচে থাকতে মানুষের সাহায্য দরকার হয়। কিন্তু তাদের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া সহসা এই উপলব্দিটি অনুভূত হয় না।
মানুষের স্ট্রেস কমাতে বিড়ালের গায়ে হাত বুলালে চমৎকার কাজ দেয়। পশুকে ভালোবাসলে মানুষ আরও মানবিক হয়ে উঠে, জীবনের মায়া বোঝে। আমেরিকান বাচ্চারা জন্মদিনের উপহার হিসেবে কুকুর/বিড়াল প্রত্যাশা করে। আর এই উপহারটি পেলে এই দায়িত্ব বহনের মধ্য দিয়েই দায়িত্ববান হয়ে গড়ে উঠে তারা। উপকার দু’পক্ষেরই।