নীল শাড়ি – ফয়সাল হাসান।

ব্যস্ত শহরে প্রতিটি সকাল,নতুন সাজে শুরু হয়।কখনও সকাল দেখা হয়নি।ব্যাচেলর লাইফের রুটিনটা একটু ভিন্নভাবে ছিল।রোজ লেট করে ঘুম থেকে উঠা একটা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে। দুপুর বেলাটা কোন রকম কাটিয়ে বিকাল না হতে,একঝাক খোলা আকাশ দেখতে বাহির হতাম তিন বন্ধু নিলয়,আকাশ আর আমি শুভ্র।খোলা আকাশের দিকে অনেক গল্প হাতছানি দিতো।বিকেলটা অনেক তর্ক বির্তক দিয়ে কাটতো।সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে টং দোকানের মামার সাথে চায়ের কাপে আলাপন চলত বেশ কিছুক্ষণ ইয়ারকিতে।তারপর তিন বন্ধু আবারও রুমে ফিরে আসতাম।আকাশ রুমে এসে শুরু করত তুমুল ঝগড়া তার জিএফ এর সাথে।তাদের রিলেশনশিপ এ রোমাঞ্চকর কিছুর চেয়ে বেশিই ছিল ঝগড়া।
আর নিলয় যে রিলেশন করত তা আমাদের জানাতো না।চুপিচুপি কথা বলতো।আর রুম থেকে বাহির হয়ে বারান্দায় নিলয়ের প্রেম আলাপন চলতো। আর আমি শুভ্র জিএফ তো ছিলো না।রুমে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম আকাশের দিকে।তাদের ঝগড়া দেখে অনেক সময় হেসে উঠতাম।আকাশ তার জিএফ কে বলত দেখো আমাদের ঝগড়া শুনে শুভ্র হাসছে। তুমি আমাকে বুঝতে চাও না।সর্বোচ্চ ২ মিনিট রোমান্টিক আলাপন চলত।তারপর আবারও ঝগড়া।
না এভাবে আর সময় কাটছে না।কখনও পেন্সিল হাতে চিএ এঁকে আবার গ্রেম খেলে সময় কাটাতাম।এভাবে আর কতটুকুই বা সময় কাটত।মোবাইল নিয়ে বসে পরতাম ২-৩ ঘন্টা সময় কেটে যেত।আকাশ আর নিলয় বলত অনেক রাএতো হল খাবি না।দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তোদের কথা শেষ।আকাশ বলত ১৫ মিনিট সময় পাইছি খাওয়ার জন্য।আকাশের জিএফ আকাশকে বেশ শাসনে রাখত।আর নিলয় তো সব সময় আরে না আমি প্রেম করি না।এমনিতে বারান্দায় বসেছিলাম।আচ্ছা চল তিন ভাই একসাথে খেতে যাই।খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবার যে যার মত আবারও বসে পরত।আমি বেচারা শুভ্র কাটিয়ে দিতাম মোবাইলে মুভি দেখে।কখনও আকাশ কখনও নিলয়কে বলতাম একটা এ্যাকশন মুভির নাম বলত।আমি মুভি দেখব।ওরা ওদের লিস্ট থেকে নাম বলত।আর আমি মুভি দেখে সময় কাটিয়ে শুয়ে পরতাম।কখনও টের পেতাম নিলয় আমার চাদরটা আমার গায়ের উপর উঠিয়ে দিত।চাদরটা গায়ে মুড়িয়ে শুয়ে পরতাম।
—————————————-
সকালটা এত সুন্দর হয় কখনো জানা ছিল না।কখনও সকাল দেখা হয়নি ব্যস্ত শহরে।জানালার গ্রিল দিয়ে সূর্যের তাপ গায়ে এসে পরছে।রাগ হচ্ছিল জানালাটা কে খুললো।চাদর থেকে মুখটা চরিয়ে চোখটা আলতো করে খুললাম।পাশে একটা চেয়ারে বসে আছে এক অপরূপ সুন্দরি রমনি নীল শাড়ি পরে বসে আছে দুই কাপ চা নিয়ে।মাঝে মধ্যে আমার মাথা হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।আমি কিছুটা চমকে উঠে বসলাম।আকাশ আর নিলয় কোথায়।তুমি কে?
আকাশ আর নিলয় ক্যাম্পাসে চলে গেছে।আচ্ছা তুমি খুশি হয়েছো না।দেখ আমি নীল শাড়ি পরেছি।তুমি না চাইতা তোমার প্রিয় মানুষটা নীল শাড়ি পরে তোমার সামনে আসুক।
হ্যাঁ আমার পছন্দের কালার ছিল কাল।কিন্তু আমি চাইতাম আমার প্রিয় মানুষটা আমার সামনে নীল শাড়ি পরে আসুক।কেননা প্রথম দেখাটা কাল শাড়ি হলে কেমন জানি মনে হয়।আমি চাই না আমার পছন্দের মানুষটার সাথে আমার প্রথম দেখাটা কাল শাড়িতে শোকের বার্তা বয়ে আনুক।কিছুটা চমকে গিয়ে ভাবলাম ওকি আমার কল্পনার প্রিয়তমা।এই মুহূর্তে ও আমাকে কাফে চা দিল।আবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে চায়ের কাপে চুমু দিলাম।ঠোঁটে কিছুটা গরম লেগে উঠল।চা ঠিকই খেতাম।কিন্তুু চা খেতে পারদর্শী ছিলাম না।আমার দুই বন্ধু কখনও আমার কাপ চা এর সাথে তারা দু-কাপ খেয়ে ফেলত।
নীল শাড়ী পরা মেয়ে আমাকে বলল যাও ফ্রেশ হয়ে আসো।আমরা একসাথে ক্যাম্পাসে যাব।আমি গেলাম ফ্রেশ হতে।ঝরনা না ছাড়তে মুখে এসে পানির ছিটা।চোখ খুলে নিলয় কিরে কলেজ যাবি না।তোকে এত করে ডাকছি।কলেজে তো প্রোগ্রাম শুরু হতে আর ৪২ মিনিট বাকি আছে।প্রোগাম তো না গেলে সঠিক সময়ে শুরু হবে না।আমি ক্লান্তির চাপ নিয়ে উঠে বসলাম।
এটা কি শুধুই স্বপ্ন ছিল?

কমেন্ট করুন