ধর্ষকের চেহারার সাথে যারা ভিকটিমের কথা মিলাতে পারছেন না- রাজীব হোসাইন সরকার।

ধর্ষকের চেহারার সাথে যারা ভিকটিমের কথা মিলাতে পারছেন না, এই স্ট্যাটাসটি তাদের জন্য-
১. ধর্ষক অহংকারী ছিল (অথচ চেহারা দেখে মনে হচ্ছে এই লোক এমন হতেই পারে না)
-ধর্ষকের ছবিটা যারা দেখেছেন তাদের ফরেনসিক স্পেশালিস্ট হতে হয়নি। ফার্স্ট সাইটেই বুঝেছেন- এই লোক এডিক্ট। নেশাখোর। এই চেহারা নেশাখোরদের টিপিক্যাল চেহারা। সাথে তার সোসিও-ইকোনোমিক কন্ডিশন। দরিদ্র কিন্তু শ্রমজীবী।
এই ধরণের মানুষের একমাত্র কাজ হলঃ পেটপুরে ভাত খাওয়া। সাথে একমাত্র বিনোদন হল- সেক্স। সেটা টাকা দিয়ে হোক আর জোর করেই হোক। সবকিছুই ছাপিয়ে সবচেয়ে আনন্দের কাজ হল- ড্রাগ (গাঁজাজাতীয় বেশি)
একজন নেশাগ্রস্থ মানুষের সাথে যাদের জীবনে একবার পরিচয় হয়েছে তার অভিজ্ঞতা থাকার কথা। এরা অনর্গল কথা বলে। ননসেন্স প্যাটার্নে। কথাবার্তা শুনলে আপনার মনে হবে- এই লোকটি একজন ভয়ানক ক্ষমতাবান। দেশের রাষ্ট্রপতিও তার কাছে নস্যি। কেন সে অহংকারির মত আচরণ করেছে আশাকরি আন্দাজ করতে পারছেন।
যদি এখনো লজিকটা না বোঝেন, একজন এডিক্টের কাছাকাছি যান। পর্যবেক্ষণ করুন। যারা পর্যবেক্ষণ করে, তাদের লজিক দ্রুত শানিত হয়। ইডিয়ট লেভেলের লজিক তাদের মাথা থেকে বিদায় নেয়।
২. এই নড়বড়ে লোক মেয়েটিকে অজ্ঞান করে কীভাবে? এত শক্তি কোথায় পায়? কীভাবে ধরে নিয়ে যায়?
-আপনার মাথায় অন্তত এই চিন্তাটা আসেনি যে মেয়েটি আগ্রহ নিয়ে ধর্ষকের পেছনে পেছনে হেঁটে গেছে, রাইট? যদি এমন চিন্তা আসে তবে পরের অংশ পড়বেন না। লজ্জা পাবেন।
-হিউম্যান ফিজিওলজি খুবই জটিল বিষয়। এখানে নার্ভ-হরমোন একসাথে কাজ করে। পুরুষ এবং স্ত্রীর শক্তি ও সহ্য ক্ষমতা সমান নয়। যারা আমার সেক্সুয়াল ডাইমর্ফিজম আর্টিকেলটি দেখেছেন তারা জানেন, পুরুষের টেস্টোস্টেরন হিংস্রতার হরমোন। মেয়েদের এই হরমোন অতি অল্প থাকে। এই হরমোনের কারণে ছেলেদের পেশি বেশি। পেশিতে শক্তিও বেশি। ছেলেদের হৃদপিন্ড, কিডনি এমনকি অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের আঁকারও বেশি। একজন এডিক্টের বিজারি মস্তিষ্ক হলেও তার শক্তি ভিকটিমের চেয়েও বেশি। কারণ তার মাথায় তখন- স্বার্থসিদ্ধির চিন্তা চলছে। যদি সে তার কাজ না করতে পারে, ধরে আড়ালে নিয়ে যেতে পারে তবে স্বার্থসিদ্ধিও হবে না। উলটো মানুষের কাছে ধরাও পড়তে পারে। এজন্য সর্বশক্তি দিয়েই সে ভিক্টিমকে টেনে নিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত আকস্মিক ইনসিডেন্টে হিউম্যান ব্রেইন-নার্ভ-হরমোন ভিন্নভাবে কাজ করে। সামান্য তেলাপোকা দেখেও একটি মেয়ে ভয়ে আনকনসাস হয়ে যেতে পারে। এমন অনেক কেইস আমি দেখেছি, জেনেছি, সামান্য গায়ে হাত দেবার কারণে, মৃদ্যু স্পর্শ করার কারণেও একটি মেয়ে ভয়ে আনকনসাস হয়ে যায়। আকস্মিক নিকটাত্মীয় কারো মৃত্যুসংবাদ শুনেও একটি মেয়ে ভ্যাসোভ্যাগাল শকে আনকনসাস হয়ে পড়ে যেতে পারে। মেয়েটার এজমা ছিল, এটা যেকোন সিচুয়েশনে বাড়তে পারে। কলাপ্স করতে পারে। এজমা মানে হাপানী। স্পটে ইনহেলার পাওয়া গেছে, এটা জানেন?
সেখানে নির্জন রাস্তায়, অন্ধকারে, বিরূপ পরিবেশে, নেশাগ্রস্থ ধর্ষকামী পুরুষের সশক্তি আক্রমণে, ধর্ষিত হবার পূর্বমুহুর্তে আমার বোন, আপনার মা, অমুকের চাচী খালা যদি আনকনসাস হয়ে যায়, আপনি কী ভাববেন?
শিশ্নের প্রবল আঘাতেই শুধু কনসাসনেস হারাবে এই চিন্তা করার আগে, আপনার তেলাপোকা দেখে ভয় পাওয়া ছোটবোন, সাপের কথা শুনেই টলে পড়া মায়ের কথা মাথায় আসে না?
যদি না আসে, ইউ নিড সাইকিয়াট্রিক ট্রিটমেন্ট। Just nock me, I’m your Doctor from right now.