ধর্ম ব্যবসা এবং লালসালু- রায়হান সুমন।

বাংলাদেশ মূলত গ্রামপ্রধান এবং সমাজ ভিত্তিক বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। এদেশের বেশির ভাগ মানুষের বাস গ্রামে । এই বিশাল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন দীর্ঘকাল ধরে অতিবাহিত হচ্ছে নানান অপরিবর্তনশীল তথাকথিত অনাধুনিক বেসিকের উপর ভর করে। সমাজের এসব ব্যাপার থেকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, বেছে নিলেন তাঁর উপন্যাসের পটভূমি, বিষয় এবং চরিত্র। সামাজিক রীতি-নীতি,প্রচলিত আইডোলজি , কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্মভীরু, ধর্ম ব্যবসায়ী এবং শোষক-ভূস্বামী। যাহাই লাল সালু।
এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের আবার আলাদা পোশাক আছে। সব ব্যবসায়ীকেই তার ব্যবসার কল্যাণে নানান সময় নানান বেশ ধরে থাকতে হয়।এই পোশাকটা এমন হয় যাতে সহজেই টার্গেট সাধারনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।বাংলাদেশ যেহেতু সংখ্যাগরিষ্টের দিক দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র তাই ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজেদের পোশাক হিসেবে বেচে নিল পাঞ্জাবি,টুপি আর দাড়িকে।
এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্দেশ্য পুরনের জন্য জনসাধারনের বিশ্বাস,আবেগ,আনুভুতি,সত্ত্বার সাথে ধোকাবাজী করে যাচ্ছে অনবরত। চিনতে বেগ পেতে হয়না এসব ব্যবসায়ীদের। কিন্তু সাধারন মানুষের মনে যেহেতু অল্পবিদ্যার দুর্বলতা আছে তাই এইসব ভন্ড হিপোক্রেটদের প্রধান টার্গেট পিউপল হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের জনসাধারণ। এরা ধর্মের নামে মিথ্যা ছড়াচ্ছে, ইসলাম ধর্মের লেবাসে ভিন্ন ধর্মাবলম্বিদের উপাসনালয় পুড়াচ্ছে, ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।এদের মতে এসব করলে নাকি ধর্ম প্রতিষ্টা হয়
কুসংস্কারের শক্তি আর অন্ধবিশ্বাসের দাপট। স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ও সমাজ সরল ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে কীভাবে বিভ্রান্ত ও ভীতির মধ্যে রেখে শোষণের প্রক্রিয়া চালু রাখে তার অনুপুঙ্খ বিবরণ তিনি দিয়েছেন ‘
শিল্পী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ জীবনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে, সূক্ষ দৃষ্টিতে বিচার করেছেন । সমাজকে এফোঁড় ও এফোঁড় করেছেন তাঁর চুলচেরা বিশ্লেষণে । ধীশক্তির মানসপুত্র শিল্পীর রক্তক্ষরণ হয়েছে সমাজের শোষণ এবং অরাজকতায় । তাই তিনি আমাদের সমাজের চেহারাকে তুলে ধরতে প্রয়াস পেয়েছেন তাঁর ‘লালসালু’ উপন্যাসে । সমাজের কালিমাকে ,পীরবাদকে শিল্পী তাঁর লেখনীতে তুলে ধরেছেন অত্যন্ত শিল্প সফল ভাবে ।
ধর্ম চর্চার বিষয়, ধারন করার বিষয়! স্ব স্ব ধর্মে প্র্যাকটিকাল না হলে ধার্মিক হওয়া যায়না।
আজকাল লাল সালুর মজিদদের সংখ্যাটা বেশি, আক্কাসদের সংখ্যাটা কম! কবে বন্ধ হবে এই ধর্ম ব্যবসা?
print

কমেন্ট করুন