করোনায় গর্ভবতী মায়েদের করনীয়- ডাঃ নাজিয়া।

প্রথমত, যারা এখনো গর্ভধারণ করেননি কিন্তু গর্ভধারণের কথা ভাবছেন তাদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে, এই সময়ে গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকাটাই তুলনামূলক শ্রেয়।
এর কারণ হলো এই Covid 19 ভাইরাসটি একেবারে নতুন একটি ভাইরাস এবং এর উপর গবেষণা কেবল শুরু হয়েছে আর এই মুহুর্তে ভাইরাসটি বিপদজনকভাবে সংক্রমণের তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে। আপনার পাশের সুস্থ মানুষটিই হয়ত এই ভাইরাস বহন করছে কোনো প্রকার লক্ষণ প্রকাশ করা ছাড়াই। এই ভাইরাসের গর্ভস্থ ভ্রুণের গঠনের উপর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা এ বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
দ্বিতীয়ত, এবার আসুন যারা গর্ভধারণ করেছেন তাদের জন্যে কিছু প্রয়োজনীয় পরমর্শ দিচ্ছি। করোনা থেকে সাবধান থাকার জন্য সাধারণ নিয়ম কানুন যা যা আছে তা মেনে চলুন যেমন হাত ধোয়া, বাসায় অবস্থান করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ইত্যাদি। এসময় যেন বাহিরে কম যেতে হয় এবং দুশ্চিন্তা না হয় তাই কিছু পরামর্শ দিচ্ছি যা গত একমাসে আমি আমার রোগীদের না না পরামর্শ দিতে গিয়ে মনে করেছি সবার কাজে আসবে।
১। যারা মাত্র গর্ভধারণ করেছেন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে আছেন বাসায় পরিক্ষা করেছেন তাদের জন্য পরামর্শ হলো,
কোনো গাইনী ডাক্তারের জন্যে হন্যে হওয়ার দরকার নেই। এখন কোনো পরিক্ষা নিরিক্ষার তেমন কোনো প্রয়োজন নেই।
– বাসায় থাকবেন,
– বিশ্রামে থাকবেন (দিনে ২ ঘন্টা রাতে ৮ ঘন্টা)
– পুষ্টিকর খাবার খাবেন
– ভারী কাজ ও সহবাস করবেন না প্রথম ৩ মাস
– জিংক+ফলিক এসিড এই জাতীয় ভিটামিন খাবেন
– যদি তীব্র পেট ব্যাথা, কোনো প্রকার ব্লিডিং হওয়া বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এই জাতীয় সমস্যা হয় তবে অতি সত্বর কোনো হাসপাতালের ইমারজেন্সীতে সরাসরি চলে যাবেন বিলম্ব না করে (আর সম্ভব হলে একজন ডোনার এখনি ঠিক করে রাখুন কেননা প্রয়োজনে যেন ভোগান্তি না হয়)
– শুধু মাত্র যাদের আগে থেকে প্রেসার, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা ও অন্যান্য কোনো সমস্যা আছে এবং নিয়মিত ওশুধ খেয়ে থাকেন তারা শুরুতেই একজন গাইনী ডাক্তারের সাথে ফোনে বা ভিডিও কলে পরামর্শ করে নিতে পারেন ওষুধের ব্যাপারে কারণ কিছু কিছু ওষুধ গর্ভাবস্থায় নিরাপদ নয় তাদের পরিবর্তন ও মাত্রা পুনঃ নির্ধারণ প্রয়োজন।
২। যাদের ৩ মাস হয়ে গেছে তারা
জিংক ফলিক এসিডের পরিবর্তে আয়রণ ও ক্যালসিয়াম জাতীয় ওষুধ শুরু করবেন এবং চলবে একেবারে ডেলিভারি পর্যন্ত।
৩। যাদের ২০ থেকে ২২ সপ্তাহ হয়ে গেছে
– তারা কোনো সিরিয়াস কারণ না থাকলে রুটিন এনোমালি আল্ট্রা সনোগ্রামের জন্য অস্থির হবেন না।
– অনেকেই বাচ্চার নড়াচড়া এই সময়ে বুঝতে পারেন তারা সারাদিনে বাচ্চা নড়াচড়া করল কিনা শুধু সেটা খেয়াল রাখবেন। গোনার প্রয়োজন নেই।
– যাদের টিটেনাস টিকা দেবার কথা রয়েছে তারা নিকটবর্তী যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গিয়ে বা কাউকে বাসায় এনে ডোজটি নিতে পারেন সব ধরনের সাবধানতার সাথে। সরকারীভাবে না পেলেও ঘারড়াবেন না ফার্মেসিতে কিনতেও পাওয়া যায়।
৪। যারা ২৮ সপ্তাহ বা ৭ মাস অতিক্রম করেছেন
– তারা বাচ্চার নড়াচড়া ভালোভাবে খেয়াল রাখা শুরু করবেন। সারাদিনে ১২ ঘন্টায় থেমে থেমে ১০ পর্বে নড়বে। এর বেশি হলে সমস্যা নেই তবে কম হলে একজন গাইনী ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
৫। যাদের সময় প্রায় শেষের দিকে যাদের এটি প্রথম সন্তান অথবা আগের সন্তান নরমাল ডেলিভারি হয়েছে তারা তাদের ডাক্তারের বেধে দেয়া ডেইট পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন যদি সবকিছু ঠিক থাকে এবং ডেইট অতিক্রম করলে অবশ্যই একজন গাইনী ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। (**এখানে উল্লেখ্য যে আল্ট্রাসনোগ্রামে বার বার ডেইট পরিবর্তিত হয় তাই শেষের দিকের আল্ট্রার ডেইট নেয়া যাবেনা। প্রথম দিকের আল্ট্রার ডেইট অথবা ডাক্তারর বেধে দেয়া ডেইটই চুরান্ত ধরতে হবে অন্যথায় বিপদ হতে পারে)
– যে সমস্যাগুলো হলে অতি দ্রুত হাসপাতালের সরণাপন্ন হবেন যেমন- বাচ্চার নড়াচড়া কমে যাওয়া, থেমে থেমে ব্যাথা হওয়া, লালচে স্রাব যাওয়া, পানি ভেংগে যাওয়া ইত্যাদি।
– মনে রাখবেন যাদের আগের সন্তান সিজারে হয়েছে তাদের সাধারণত নির্ধারিত ডেইটের ২ সপ্তাহ পূর্বে সিজার করতে হয়।
উপরের উপদেশাবলী কেবল যাদের নরমাল প্রেগন্যান্সী তাদের জন্য প্রযোজ্য। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। স্বাভাবিকের চেয়ে ব্যতিক্রম কিছু হলে অবশ্যই একজন গাইনী ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নিবেন।
ডাঃ নাজিয়া সুলতানা (শুভ্রা)
MBBS, FCPS (Obs & Gynae)
কন্সালটেন্ট
গাইনী ও প্রসূতি বিদ্যা