একফালি সুখের আশায় – মীর সজিব।

সুহেল ও কুলসুমের বিয়ে হয়েছে আজ থেকে ৫ বছর আগে। সুহেলের আপনজন বলতে তার স্ত্রী কুলসুমই। জন্মের কিছুদিন আগে বাবা মারা যাওয়া ছেলেটার শেষ আশ্রয় ছিলো তার মা, জন্মের ৩ বছর পরেই তার শেষ আশ্রয়টাকেও বিধাতা কেড়ে নিয়েছে। এর বাড়ী ওর বাড়ী, এখানে সেখানে কাজ করেই সুহেলের বেড়ে উঠা।
সময়ের স্রোতে সুহেল ও বড় হতে লাগলো। টগবগে যুবক, বাস্তবতাটা’কে খুব কাছ থেকে দেখে বড় হয়েছে। বাস্তবতা’কে সহজেই মেনে নিয়েছে।
গ্রামেই তার বেড়ে উঠা। গ্রামে দিন এনে দিন খাওয়া ছেলেটা’র এই গ্রামে যেন কেউ আপন নেই। একদিন তার সিদ্ধান্ত শহরে চলে যাবে। সেখানে সে কোন একটি কাজ জোগাড় করে নিবে নাহয় গার্মেন্টসে’র কাজে ঢুকে যাবে।
যেই ভাবা সেই কাজ। পরিচিত একজন লোকের মাধ্যমে গার্মেন্টসে’র কাজ পেয়ে যায় সে।
হাসি-খুশির মধ্যেই তার কাজ চলে। দিন গড়িয়ে মাস, মাস গড়িয়ে বছর এভাবে কয়েকবছর কেটে যায় তার এই গার্মেন্টস এ।এখানে সবার খুব পরিচিত মুখ এই সুহেলের।
একটা সময় সে ভাবতে থাকে, তার খুব কাছের একজন মানুষ প্রয়োজন। যার সাথে সে তার সুখ দুঃখ সবকিছু ভাগাভাগি করবে। সেই ভাবা থেকেই বিয়ে করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। তার চোখে ভাসতে থাকে কুলসুমের মায়াবী চেহারাখানা।
মায়াবী চোখ, কাজল কালো চোখের মণি, পাগল করা গালে টোলপড়া হাসি। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে তার চোখ বন্ধ হয়ে গেলো সে বুঝতেই পারে নি।
সকালে ঘুম থেকে উঠে আগের নিয়মেই তার কাজে যোগদান করলো। কুলসুম গেটের দারোয়ান আজগর আলীর মেয়ে। আজগর ও সুহেল কে খুব পছন্দ করে ভালো ছেলে হিসেবে। সুহেল ও যথেষ্ট সম্মান করে আজগর আলীকে। দুজনের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক হয়ে উঠে ঠিক যেন বাবা ছেলের মতো করে।
আজগর আলীর বাসায় আসা যাওয়ার মধ্যেই কুলসুমের সাথে পরিচয় সুহেলের।
সুহেল সাহস করে একদিন আজগর আলীকে তার পছন্দের কথা জানালো, আজগর আলী সুহেলের কথা শুনে দ্বিমত পোষণ করতে পারলো নাহ। ছেলেও ভালো। ভালো টাকা মাইনে পায়। এই দেখেই আজগর আলী মেয়েকে সুহেলের হাতে তুলে দেয়।
এভাবেই সুহেল আর কুলসুমের সংসার চলতে থাকে। এক বছর পর কুলসুমের কোল আলো করে একটি মেয়ে আসে। মেয়েকে নিয়ে কুলসুমের সময় কেটে যায় আর সুহেলের দেখাশোনা এইগুলা করেই কুলসুম সময় পার করে।
আজগর আলীও নাতীনকে নিয়ে অবসর সময় টা নিয়ে খেলা করে। নাতীনকে সারাক্ষণ ই কোলে নিয়ে রাখে। এখানে নিয়ে যায় সেখানে নিয়ে যায়। আজগর আলীও যেন হারানো ধন খুজে পেয়েছে তার নাতীন পেয়ে।
এই গার্মেন্টসে সুহেল অনেকদিন যাবৎ রয়েছে। বড় কর্মকর্তা তার কাজে খুবই মুগ্ধ। সুহেলের কাজের প্রশংসা সব সময়ই তার বড় স্যারের মুখে শুনে সে।
এই গার্মেন্টস থেকে তাকে এই কোম্পানির অন্য একটি গার্মেন্টসে তাকে ট্রান্সফার করা হবে। মাইনে ও বাড়িয়ে দেওয়া হবে। সুহেল অখুশি ও না আবার খুব খুশিও নাহ।
অনেকদিন যাবৎ এই একটি জায়গায় সে রয়েছে এই জায়গাটি ছেড়ে যেন যেতে দিচ্ছে না তার এই কোমল মন। কিন্তু চাকুরির কথা চিন্তা করে ভালো মাইনে ও পাবে সেই ভেবেই তার সিদ্ধান্ত নিলো ট্রান্সফারের জায়গায় চলে যাবে।
এতদিন এক জায়গায় থেকে এই জায়গার প্রতি একটা মায়া জন্মেছিল। আপন নীড় এর মতো ভেবে নিয়েছে। আপন নীড় ছেড়ে যাওয়ার কতটা কষ্ট তা আজ সুহেলের মনে কষ্টের তীর লাগার মতো। শত কষ্টের মাঝেও একফালি সুখের আশায় কুলসুম তার কাধে মাথা রেখে নতুন জায়গার কথা ভাবছে।

কমেন্ট করুন