উত্তরাধিকার – শুভ্র ভৌমিক জয়।

জন্ম থেকে জন্মান্তর প্রতিটি জীবের শরীরে যেমন হৃদপিন্ড বিদ্যমান আছে ঠিক তেমনি
সেই শরীরেই রয়েছে হৃদয়।সেই হৃদয়ের কোমলতা কিংবা আকুলতার স্থিতিশীলতা একমাত্র সেই ব্যাক্তি জানেন যিনি আমাদের এই মহাবিশ্বে সৃষ্টি করেছেন।তিনি তার নিজের আত্ম-তত্ত্বের দ্বারা তার উপাসকদের সৃষ্টি করে যাচ্ছেন ক্রমাগতই।আধুনিক কালে মানুষের বিশ্বাস আর প্রত্যক্ষ প্রমাণের একমাত্র হাতিয়ার হলো বিজ্ঞান।আর তাই সৃষ্টার সেই সৃষ্টি ও পালন তত্ত্বের কিছুটা বিজ্ঞান খুজেঁ পেয়েছে আর বাকিটার সন্ধান চলছে……

বিজ্ঞান তার ধারায় ক্রিয়াশীল থেকে জন্ম-মৃত্যুর মাঝে মানুষ যে সময়টুকু পান সেই সময়ের কর্ম আর চরিত্রের আনুমানিক আগাম বার্তা দিয়ে চলেছে। যা থেকে আপনি আপনার উওরাধিকারীকে জন্ম থেকেই কেমন করে গড়ে তুলছেন তা বলে দিবে!

বাংলায় একটি জনপ্রিয় উক্তি রয়েছে, “চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ”।এই ব্যপারে
বিজ্ঞান কি বলে?!!
বিজ্ঞান তার সংখ্যা ও গুনবাচক অবস্থানে থেকে মানুষের চরিত্রের ভালো-মন্দ উৎপত্তিকে প্রধান দু’টি ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে।

মানুষ তার পুরো চরিত্রের অর্ধাংশ পায় মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায়।সেইখানে স্বাভাবিক অবস্থায় বিদ্যমান বাবা-মায়ের মিলিত স্পন থেকে নিষেকের ফলে তৈরীকৃত বৃদ্ধিকারক DNA কে ধারন করে মানুষ বড় হয়ে যাচ্ছে এই মৃত্যুধারিত পৃথিবীতে।সেইখানে বাবা-মায়ের চরিত্রের মিলিত উপাদানসমূহে তৈরী হয় নতুন জীবনের প্রায় অর্ধচরিত্র। মা-বাবার তাদের নিজেদের কর্ম আর জন্ম থেকে পাওয়া চরিত্রের প্রতিফলন সন্তানের উপর করে মাত্র। এতেই নতুন জীবনের প্রাথমিক চরিত্র নির্ধারণ হয়।

প্রসঙ্গত বলে রাখি,
আমাদের দেহে যে DNA আছে তার মোট দৈর্ঘ্য ২০০০০০০০০০০ কি.মি। পৃথিবী থেকে সূর্য পর্যন্ত ৫০ বারেরও বেশি আসা যাওয়া করলে যে দূরত্ব অতিক্রান্ত হবে, তার সমান।

আর DNA তে যে ইনফরমেশন আছে তা যদি লিপিবদ্ধ করা হয়, তবে তা হবে ৯০০ খণ্ডের বিশালাকার এনসাইক্লোপিডিয়ার সমান। যেখানে প্রতিটি খণ্ডের পৃষ্টা সংখ্যা হবে ৫০০টি।

আমাদের দেহে মোট কোষের সংখ্যা হলো ৩৭.২ ট্রিলিয়ন। সেন্সরি রিসেপ্টর আছে ১১০ মিলিয়ন। লৌহিত রক্ত কণিকা (RBC) আছে ৩০ ট্রিলিয়ন। শুধুমাত্র মস্তিষ্কেই নিউরন সংখ্যা ১০০ বিলিয়ন। দেহে মোট ব্লাড ভেসেল আছে ৪২ বিলিয়ন, যা ৯৭০০০ কি.মি লম্বা।

একটু চিন্তা করেন তো, এই সুবিশাল ক্ষুদ্র অংঙ্গগুলোর মাঝে নতুন জীবনটি তাইলে কার চরিত্রের মধ্যদিয়ে জীবনের সূচনা করবে?বুঝতেই পারছেন সেই প্রশ্নের উওরটি খুবই সহজ ভাবেই আপনি এবং আপনার সঙ্গীর দিকে যাচ্ছে।

তবে জীবনের আর বাকি অর্ধেকটা?

সেটা তো নির্ধারন করবে আপনি কোন পরিবেশে থেকে আপনার নতুনকে বড় করে তুলছেন! আর কোথায় সে শিক্ষা-প্রগতি লাভ করে বড় হচ্ছে!

আপনি যদি নিজের কর্ম আর জ্ঞানের প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে পারেন তবে আপনার সন্তান পাবে আপনার দেওয়া সেই জ্ঞান ও কর্মের পরিবেশ।আর যদি আপনি তাকে সেই শিক্ষায় বড় করে তোলেন যেখানে শুধু আছে অন্ধকার চরিত্রের মেলা।তবে নতুন তা খুব তাড়াতাড়ি গ্রহন করে নিবে।

তাই বলছি, আপনার উওরাধিকারীকে আপনিই তৈরী করুন নিজেকে সঠিক শ্রম ও মূল্যয়নের মাধ্যমে তৈরী করে।

কমেন্ট করুন