আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ব্যাক্তিত্বঃ জনাব তারিকুল ইসলাম চৌধুরী স্যার।

২০১১ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আমার অনেক ভালো হয়েছে। জিপিএ ৫ ছিলো। মামা বলেছিলো পলিটেকনিকে ভর্তি হওয়ার কথা। পাত্তা দেই নি মামার কথায়। ভর্তি হলাম কলেজে। গ্রামের কলেজে ভর্তি না হয়ে ভর্তি হলাম শহরের সরকারি কলেজে। সাইন্সের স্টুডেন্ট ছিলাম। কলেজে তেমন ক্লাস করিনি। এইসএসসির ফলাফল তেমন ভালোও হয় নি। মোট কথা ফেইল….
হতাশ হয়ে ভাবতে লাগলাম কি করবো? এখন কি করা উচিত? সুইসাইড করবো!
না!
আবার পরীক্ষা দিলাম। ফলাফল এবারও শূন্য। পাশ করেছি তবে পয়েন্ট ভালো ছিলো না।
এবার!
মাথায় কিছুই কাজ করতেছে না। কি করবো। দু দু বার পরীক্ষা দিয়েও একই ফলাফল!
অনেক ভাবলাম। তারপরও মাথায় কিছুই কাজ করতেছিলো না।
হঠাৎ মাথায় আসলো পলিটেকনিক এর কথা। কিন্তু, মামার কথায় কান না দিয়ে ভর্তি হলাম কলেজে। এখন ফলাফলও আসলো শূন্য। এখন কি তাহলে ৩ বছর গ্যাপ দিয়ে পলিটেকনিক এ ভর্তি হবো?
কিছু করার নেই। জীবনে চলতে হলে কিছু তো অর্জন করতে হবে। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম পলিটেকনিকে ভর্তি হবো। কিন্তু, সরকারি পলিটেকনিকে তো সুযোগ নেই। এসএসসি পরীক্ষার পর ৩ বার সুযোগ দেয়। আমি তো সে সুযোগ হারিয়ে ফেলেছি। এখন উপায়!
ভর্তি হলাম সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। এখানে এসে সর্বপ্রথম অধ্যক্ষ জনাব মোঃ তারিকুল ইসলাম চৌধুরী স্যার এর মোটিভেশনাল কিছু কথা আমাকে মুগ্ধ করে।
আমি কিছুই হারাইনি!
এখনো কিছু করার সুযোগ আছে আমার। ভর্তি হয়ে গেলাম “সিভিল” টেকনোলজিতে।
আশ্চর্য জনক বিষয় হচ্ছে, আমার প্রান প্রিয় মানুষটাকে আমি ঐ বছর বিয়ে করি। এখন আমার একটা ফুটফুটে মেয়েও আছে(এর পেছনেও রোমান্টিক একটা গল্প আছে)।
বলতে বলতে ৪ বছরের কোর্স কমপ্লিট করে ফেললাম।
এখন একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আছি। সবকিছুই ভালোই চলতেছে উপরওয়ালার ইচ্ছায়।
সর্বশেষ এটাই বলবো। প্রত্যেক মানুষের জীবনে উপরে উঠার জন্য একজন মানুষের দরকার হয়,
আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ব্যাক্তিত্বঃ
জনাব তারিকুল ইসলাম চৌধুরী স্যার।
স্যারকে নিয়ে বলার মতো এমন অনেক কিছু আছে। যা বলে কখনো আমি শেষ করতে পারবো না। উপরওয়ালা স্যারকে সবসময় ভালো রাখুক। এই প্রার্থনা করি।
আমার জীবনের কাহিনী।
প্রেম কুমার ঘোষ।

কমেন্ট করুন