অপেক্ষা – সামিউল আদনান।

তুমি জানো তোমার বিয়েতে কেন গিয়েছিলাম আমি?
তোমাকে বউয়ের সাজে দেখতে। লাল বেনারসিতে তোমাকে দেখার লোভ সামলাতে পারি নাই আমি।
তোমার বরের সাথে কেন হাত মিলিয়েছিলাম জানো?
আমার হাত ছেড়ে যার হাত ধরেছো, সেই হাতের মুঠো আমার মুঠোর চেয়েও বেশি শক্ত কিনা দেখলাম।
বলতো, তোমার বরের সাথে কেন বুকে বুক মিলিয়েছি?
পারবে না বলতে জানি। তুমি যার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবে, তার বুক কি আমার বুকের চেয়েও চওড়া নাকি জানার জন্য।
আচ্ছা বলতো, তোমার বরের সাথে পাশাপাশি কেন বসেছিলাম আমি?
তাও পারবে না জানি। দেখলাম পাশাপাশি বসলে কাকে উঁচু লাগে বেশি। নাহ ভদ্রলোক আমার চেয়েও অনেক উঁচু বেশি।
মোটা মানিব্যাগের উপর বসাতে ভদ্রলোককে আমার চেয়েও অনেক বেশি উচু লাগছিল মানছি আমি। তোমার বাবা নিশ্চয় এখন সুস্থ আছে। বাবার হার্টে রিং বসানো লাগবে ভেবে তুমিওতো আমার দেয়া অনামিকার রিংটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলে জলে এখন নিশ্চয় তিনি বেশ আছেন। আমাকে হার মানতেই হলো তোমার অভিনয়ের কাছে।
চোখে জল কেন আমার? ও কিছু না বিয়ের রেজালায় ঝাল ছিল বেশি তাছাড়া আমিও বেশ আছি তোমায় নিয়ে গল্প লিখছি। হ্যাঁ গল্পেই তোমার সাথে সংসার করে যাচ্ছি আমি। সেখানেই বেশ সুখী আছি আমি আর তুমি।
তবে মনে রেখো আজ থেকে বেয়াল্লিশ বছর পরে, তোমার সাথে আমার আবার হয়তো দেখা হবে কোন এক শপিংমলে কিংবা যানজটের এই শহরের কোন এক কোণে নাতি নাতনির হাত ধরে গুটি গুটি পায়ে কাছে এসে কাঁপা কাঁপা হাতে আঁচলে চোখের চশমাটা মুছতে মুছতে, ঠিক এসে বলবে, আপনায় কেমন চেনা চেনা লাগছে? আমাদের কি আগে কখনো দেখা হয়েছে?
মনে রেখো ঠিক বেয়াল্লিশ বছর পরে হয়তো আমাদের আবার দেখা হবে। তোমার আমার ভালোবাসার সুবর্ণ জয়ন্তীতে।

কমেন্ট করুন